প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনও কখনো অনেকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। যেমন শীতকাল খুশির বার্তা নিয়ে আসে দিনাজপুরের হতদরিদ্র মানুুষের জন্য। ওই সময়ে ঝরে পড়া গাছের পাতা সংগ্রহ করেন তারা। বর্ষা মৌসুমে তারা এগুলো ব্যবহার করেন জ্বালানি হিসেবে। আবার বিক্রি করে কিছু আয়ও হয়। শালবনের শুকনো পাতা কুড়িয়ে জীবনজীবিকা নির্বাহ করেন জেলার অনেকে।
প্রতি বছর ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস দিনাজপুরের কয়েকটি শালবনের ঝরা পাতা কুড়িয়ে বিক্রি করেন শত শত মানুষ। এসব নারী-পুরুষের ভাগ্যের চাকাও ঘুরি দিয়েছে ঝরা পাতা। যে যত বেশি শুকনো পাতা সংগ্রহ করতে পারেন তার আয় তত বেশি। কেউ কেউ পাতা সংগ্রহ করে বৈশাখ- জৈষ্ঠ্য মাসের দিকে বিক্রি করেন। এ সময়ে বাজারমূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়।
দিনাজপুরের বিরলের ধর্মপুর, নবাবগঞ্জ, বীরগঞ্জ, বিরামপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে শাল বাগান। যেখানে বনের আশপাশের অনেক মানুষের জীবিকার মাধ্যম এসব বাগানের কুড়ানো পাতা।
বসন্তের আগমনের শুরু থেকে ধর্মপুর, সিংড়াসহ বিভিন্ন শালবনের শাল, সেগুন, আকাশমণি গাছসহ অন্যান্য গাছের শুকনো পাতা ব্যাপকভাবে ঝরে পড়তে শুরু করে। এ শুকনো পাতা সংগ্রহ করে নিজেদেও দৈনন্দিন রান্নার কাজসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করেন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ।
কয়েকজন শালপাতা সংগ্রহকারী জানান, প্রতিদিন একজন ১০ থেকে ১৫ বস্তা পাতা সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি বস্তা এলাকায় ৪০ টাকা হারে বিক্রি হয়। এতে দিনে আয় করা সম্ভব ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। যাদের ভ্যানগাড়ি কিংবা অন্য কোনো বাহন আছে তারা পাতার বস্তা নিয়ে শহরে গিয়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাদের ৬০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বৈশাখ- জৈষ্ঠ্য মাসে বৃষ্টি শুরু হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যায়। তখন শুকনো পাতার চাহিদাও থাকে বেশি। এলাকায় শুকনো পাতার কোনো হাট নেই। একজন আরেকজন পরিচিত লোকের মাধ্যমে এই পাতা সংগ্রহ ও বিক্রি করেন তারা।