প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট চেলসির সাথে ছয় বছরের চুক্তি নবায়ন করেছেন অধিনায়ক রিস জেমস। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২ সাল পর্যন্ত স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকবেন জেমস। ক্লাব সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে গিয়ে রিস জেমস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি।
মাত্র ছয় বছর বয়সে চেলসির হয়ে অনুশীলনের সুযোগ পান জেমস। ২০২৩ সালে ক্লাবের অধিনায়ক মনোনীত হন ২৬ বছর বয়সী এই ইংলিশ ডিফেন্ডার।
ব্লুজদের সাথে জেমসের আগের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু চুক্তির শেষ বছরে যাওয়ার আগেই চেলসি নতুন চুক্তির ব্যপারে সম্মত হয়। বিশেষ করে এন্টোনিও রুডিগার ও আন্দ্রেস ক্রিস্টেনটেন যেভাবে ফ্রি ট্রান্সফার সুবিধায় রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সেই ঝুঁকি এড়াতেই চেলসি তাড়াহুড়ো করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
চেলসির হয়ে ২২৫টি ম্যাচ খেলেছেন জেমস। ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
নতুন চুক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জেমস বলেন, ‘সত্যি বলতে এটা নিয়ে তেমন একটা ভাবতে হয়নি। আমি এই ক্লাবের হাত ধরেই নিজেকে পরিণত করেছি। এই ক্লাবকে আমি ভালোবাসি। এখানে জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে এই ক্লাবের হয়ে আরো বড় কিছু অর্জণ করতে পারব।’
তিনি বলেন, ক্লাবের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মালিকপক্ষ ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর- সবার সাথেই আমি কথা বলেছি। আমরা যে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছি এবং যা গড়ে তুলতে চাই, তার প্রতি আমি পুরোপুরি সমর্থন জানাই। আমি সাইনিং বা নতুন খেলোয়াড় আনার বিষয় পর্যন্ত আলোচনায় যাইনি, তবে আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে আমাদের দিকনির্দেশনা ও লক্ষ্য একসাথে মিলছে। নিশ্চিতভাবেই ক্লাবের উপরের স্তর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এই ক্লাবের লক্ষ্য হলো জয়লাভ করা। আমি এখানে যত বছর আছি, ক্লাব প্রতি বছরই শিরোপা জিতেছে এবং আমরা তা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’
জেমস স্বীকার করেছেন যে চেলসি ছেড়ে অন্য কোথাও গেলে তিনি হয়তো আরো বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতেন। তবে তিনি বলেছেন, ‘ভালোবাসা ও সুখ’ তাকে নতুন চুক্তিতে সই করতে রাজি করিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই ক্লাবই আমার বাড়ি, এটিই সেই জায়গা যাকে আমি ভালোবাসি এবং যেখানে থাকতে চাই। অন্য কোথাও গেলে হয়তো আরো বেশি টাকা অর্জন করতে পারতাম। কিন্তু টাকা সবকিছু নয়। সুখ এবং আমি কোথায় থাকতে চাই- এই বিষয়গুলো আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে জিততে চাই এবং আমরা এখানেই জিতব।’
২০১৭ সালের মার্চে জেমস প্রথম পেশাদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই মৌসুমে তিনি অ্যাকাডেমির বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছিলেন। ইয়ুথ এফএ কাপে চেলসিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
উইগান এ্যাথলেটিকে লোন স্পেলের সময় জেমস চেলসি থেকে একমাত্র সময়ের জন্য দুরে ছিলেন। সেখানে তিনি মূলত মিডফিল্ডে খেলেছিলেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে মৌসুম শেষে ক্লাবের মৌসুম সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
২০১৯-২০ মৌসুমের আগে কোবহাম ট্রেনিং সেন্টারে ফরে আসার পর থেকেই তিনি চেলসির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। চোটের সাথে লড়াই করে তিনি নিজেকে আবারো প্রমাণ করেছেন এবং বর্তমানে কোচ এনজো মারসেকা ও লিয়াম লোসেনিয়রের অধীনে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি নিজের পছন্দের রাইট-ব্যাক পজিশনের পাশাপাশি মিডফিল্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্র : বাসস