এই তেল-উন্মাদনার ভেতরেই নতুন ভাগ্যের খোঁজে সেখানে এসেছিল টারবেল পরিবার। বাবা ফ্রাঙ্কলিন টারবেল, মা এসথার এবং তাঁদের তিন বছরের মেয়ে আইডা—এই পরিবারটি পেনসিলভানিয়ার চেরি রান এলাকায় বসতি গড়ে। এই পরিবারটির কথা মনে রাখা জরুরি।

আইডার বাবা ফ্রাঙ্কলিন টারবেল ছিলেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তিনি কাঠের ব্যারেল বানাতে জানতেন। তখন তেল রাখা হতো ব্যারেলে, মাপা হতো ব্যারেলে, আর পরিবহনও করা হতো ব্যারেলে ভরে। ঘোড়ার গাড়িচালকেরা ব্যারেলে ভরা তেল নিয়ে যেতেন অয়েল ক্রিক পর্যন্ত। সেখান থেকে ব্যারেলগুলো নৌকায় তুলে পাঠানো হতো পিটার্সবার্গের শোধনাগারে।

ব্যারেলের চাহিদা তখন এত বেশি ছিল যে প্রয়োজনমতো জোগান দেওয়া যাচ্ছিল না। ফ্রাঙ্কলিন টারবেল ঠিক সময়েই ঠিক জায়গায় ছিলেন। তখন পর্যাপ্ত ব্যারেল তৈরি হতো না। তাই মদের ব্যারেল, তারপিনের ব্যারেল, আখের গুড়ের ব্যারেল—যে ধরনের পিপাই পাওয়া যেত, সবই ব্যবহার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি তেলের জন্য নতুন ব্যারেলও বানানো হচ্ছিল। তখন এই চিটচিটে পদার্থটিকে ধরে রাখাই ছিল সেটি খুঁজে পাওয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ।

ফ্রাঙ্কলিন টারবেল ছিলেন উদ্ভাবনী স্বভাবের মানুষ। তিনি তেল সংরক্ষণের জন্য একধরনের ট্যাংক বানানোর উপায় বের করেন। এভাবেই তিনি কাঠের ট্যাংক তৈরি শুরু করেন। তাঁর ব্যবসার নাম হয় ‘টারবেল’স ট্যাংকস’। ব্যবসায় তিনি দ্রুত সফল হন।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি জীবনে যা কখনো কল্পনাও করেননি, তার চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেছিলেন। কিন্তু এই সাফল্যও স্থায়ী হয়নি। বেশি দিন না যেতেই সেই কাঠের ট্যাংকগুলো অচল হয়ে পড়ে। কারণ, তেল সংরক্ষণের জন্য ধাতব ট্যাংক আরও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তারপরও টারবেল পরিবারের গল্প থেমে থাকেনি। পিথোলের ধসের পর শহরের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ যে হোটেলটি তৈরি করতে ৬০ হাজার ডলার খরচ হয়েছিল, সেটি ফ্রাঙ্কলিন টারবেল কিনে ফেলেন মাত্র ৬০০ ডলারে। পরে তিনি সেটি ভেঙে ফেলেন। কাঠগুলো টাইটাসভিলে নিয়ে গিয়ে সেগুলো দিয়ে পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাঠের বাড়িতেই আইডা টারবেল তাঁর শৈশব কাটান। তখন ১৮৬৫ সাল। তাঁর বয়স আট। পরের জীবনে এই আইডা টারবেলই আমেরিকার তেলশিল্পের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠবেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews