ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন ভবন ধসে পড়েছে। ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বিবিসি প্রথমে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ১ বলে জানিয়েছিল।
ছবি: আলজাজিরাএর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বিবিসির মুন্দোতে (স্প্যানিশ ভাষার সংবাদ বিভাগ) কাজ করা সাংবাদিক নিকোল বলেন, আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটা। মনে হচ্ছিল, পুরো ভবন মাথার ওপর ভেঙে পড়বে।তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম, জানালাগুলো নড়ছে। ওই সময় সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমার মাথায় আর কিছুই আসেনি। দেয়ালটা মজবুত বলে মনে হয়েছিল।’একপর্যায়ে নিকোলের প্রতিবেশীরা চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তখন তিনিও ঘরের বাইরে আসেন।

এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অবসরে যাওয়া মারিয়া রোমেরো নামের একজন বলেন, ‘এবারেরটা ওই ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ ছিল।’
ছবি: আলজাজিরাজোড়া ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে অল্প সময় পরই তা তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।
ছবি: এএফপিইউএসজিএস বলেছে, পরপর শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দুর্যোগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালগুলোতে আহত ব্যক্তিরা ভিড় করছেন। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয় ও রেলসেবা।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাকাসে ১৮১২ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে মারা যান প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
বিডি প্রতিদিন/আশিক