কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা সাক্ষাৎ এবং মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানার এলাকায় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এসব আবেদন জানান।
আদালতে পলক নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, তার ঘাড়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। এমআরআই রিপোর্টে ঘাড়ের দুটি হাড় স্থানচ্যুত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মাথায় হেলমেটও ব্যবহার করতে পারছেন না বলে আদালতকে জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। এর মধ্যে তিনটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে এবং আরও কয়েকটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেন পলক। পাশাপাশি কারাগারে প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতিও চান তিনি।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ফেরদৌস, শাওন, সোমা ইসলাম, আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

তবে এ বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি।
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিরা ১৫ দিন পরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ পান। তবে মামলার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শের জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।