ভারতের কেরালার পেরামব্রা এলাকায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকজন মাদরাসাছাত্রের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। একইসাথে ওই ছাত্রদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে তাদের ধর্মীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে জেরা করার পাশাপাশি শারীরিক নিগ্রহও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজন ছাত্র বর্তমানে রাজ্যের কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, একটি বেসরকারি জমিতে পোস্টার লাগানোর জন্য তারা আগে থেকেই মালিকের অনুমতি নিয়েছিলেন। মালিক তাদের রাতে কাজ শেষ করতে বলেছিলেন। সেই মতো তারা রাতেই সেখানে পৌঁছালে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ছাত্রদের অভিযোগ, তাদের জোর করে একটি বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পানি দেয়ার কথা বলে তাদের বসিয়ে রেখে ইসরাইল, ইরান, আফগানিস্তান এবং সিরিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও ধর্মীয় বিষয়ে জেরা করা হয়। এক ছাত্রে ভাষায়, ‘তারা চরম সাম্প্রদায়িক ভাষায় আমাদের সাথে কথা বলছিল এবং যুদ্ধ নিয়ে আমাদের মতামত জানতে চেয়ে চাপ দিচ্ছিল।’
এ সময় ছাত্ররা সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলে হিন্দুত্ববাদীরা গেট বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদের ধাক্কা মারা হয় এবং হাতের কড়া দিয়ে এক ছাত্রকে আঘাত করা হয়। ছাত্ররা কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নিতে গেলে তাদের পেছনে ধাওয়া করে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে গালিগালাজ করা হয়।
এই ঘটনার পর ‘ফ্রেটারনিটি মুভমেন্ট’ দাবি করেছে, এই হামলার নেপথ্যে হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা যুক্ত রয়েছে। আহত ছাত্রদের প্রথমে পেরামব্রা তালুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার বিচার চেয়ে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এবং অন্যান্য উচ্চতর মহলে পিটিশন দাখিল করবেন।