ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। সবকিছু বদলানো গেলেও প্রতিবেশী বদলানো যায় না। এ বাস্তবতাকে মনে রেখেই বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সুসম্পর্ক অটুট রাখতে সচেষ্ট থেকেছে এবং এটিকে কর্তব্য বলেও ভেবেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই দুই দেশের সীমান্তে পুশইন-পুশব্যাকের অবাঞ্ছিত প্রবণতা অনুভূত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের পর। হিন্দুত্ববাদী দলটির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের পুশইন করা হবে। নির্বাচনের আগে রাজনীতিকরা অনেক কথাই বলেন এবং বাংলাদেশের মানুষও এ অর্বাচীনতা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুশইনের অনভিপ্রেত নাটক অভিনীত হচ্ছে সীমান্তজুড়ে। এর ফলে দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ভুল বার্তা। বিশেষ করে দিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠক চলার সময়ও সীমান্তে পুশইনের চেষ্টাকে দৃষ্টিকটু বলে অভিহিত করা যায়। যা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধুদেশের কাছ থেকে আশা করা হয় না। পুশইন ও পুশব্যাকের এই অমানবিক চর্চা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। মঙ্গলবার জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে সে অপচেষ্টা। রবিবার গভীর রাতে পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইন করা ১০ জনকে বিএসএফ ৬৯ ঘণ্টা পর ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পুশইন ঠেকাতে সরকার সীমান্তে বাড়তি বিজিবি মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ পাহারায় নেমেছে বিজিবি ও গ্রামবাসী। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, সীমান্তে ভারতের পুশইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল। যেটার চাপ কিছুটা আমাদের ওপর আসছে। ভারত উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে এটা করছে বলে তিনি মনে করেন না। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানরা সীমান্তে অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো এবং শান্তি রক্ষার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আমরা চাই, এই ঐকমত্য কথায় নয়, বাস্তবতায়ও স্পষ্ট হবে।