এ বিষয়ে যেকোনো আলাপের শুরুর প্রশ্ন হতে পারে, যাকে নিয়ে এত আলোচনা-পর্যালোচনা, সেই দল কি আদৌ পুনরায় রাজনীতির মঞ্চে ফিরতে সক্ষম? তার সাংগঠনিক সেই সামর্থ্য কি অবশিষ্ট আছে? কিংবা নৈতিক শক্তি বা আদর্শিক জোর?
সাংগঠনিক শক্তি বোঝার জন্য আমাদের কাছে ভোটের উপাত্ত নেই। দলটির সমর্থক ভিত্তি সম্পর্কে আমরা জানি না। তারা নিজেরা দেড় দশক অবাধ নির্বাচন করতে দেয়নি। সর্বশেষ নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারল না। সুতরাং এই দলের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা করা একান্তই অনুমাননির্ভর ও ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য।
গত দুই বছরে তারা বড় আয়তনে কোনো সভা-মিছিলও করে দেখাতে পারেনি। যদি তাদের সে রকম সাংগঠনিক সক্ষমতা থাকত এবং ফেরার মরিয়া চেষ্টা থাকত, তাহলে সে রকম কিছু নিশ্চয়ই ঘটত এবং আমরা দেখতাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হট্টগোল করার ক্ষমতা আর মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব দেখাতে পারা ভিন্ন বিষয়। তবে তাদের নেতাদের জানাজাগুলোয় বড় আয়তনে ভিড় হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ঠাকুরগাঁও—এ রকম সাম্প্রতিক নজির অনেক। তাতে নিশ্চয়ই স্পষ্ট বার্তা আছে।
বাংলায় আদর্শিক সামর্থ্যের পাশাপাশি আবেগের জোরেও যে সংগঠন টিকে যায়, তার নজির ১৯৯১ সালের জাতীয় পার্টি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একই নাগরিক সমাজ তাঁকে তিন মাসের মাথায় পাঁচ আসনে জিতিয়েছিল পার্লামেন্টে।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দলটি আবেগ কিংবা আদর্শ—কোন জোরে ভরসা করতে চাইছে, সেটা স্পষ্ট নয়। আদর্শিক শক্তি তৈরি হয় সামাজিক চাহিদা ধারণ করতে পারার মধ্য দিয়ে বা কোনো বিশ্বাসযোগ্য উন্নত সমাজ–কল্পনা হাজির করার ভেতর দিয়ে। সে রকম কোনো রাজনৈতিক পণ্য কি আছে তাদের হাতে এ মুহূর্তে?