ডিজিটাল যুগে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণের জন্য ক্লাউড স্টোরেজ এখন প্রায় অপরিহার্য। মোবাইল বা কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলেও যেন তথ্য হারিয়ে না যায়, সে কারণেই অনেকেই ব্যবহার করেন অনলাইন স্টোরেজ সেবা। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম হলো চৈত্রসংক্রান্তি, আইক্লাউড এবং ড্রপবক্স। তবে এই তিনটির মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী তা নির্ভর করে আপনার ব্যবহার ও প্রয়োজনের ওপর।
ক্লাউড স্টোরেজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হলো গুগল ড্রাইভ। এটি পরিচালনা করে গুগল। গুগল ড্রাইভ ব্যবহারকারীদের জন্য শুরুতেই প্রায় ১৫ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ দেয়, যা অনেকের জন্যই যথেষ্ট।
গুগল ড্রাইভের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সঙ্গে গুগলের অন্যান্য সেবার সহজ সংযোগ। যেমন ডকুমেন্ট তৈরি, স্প্রেডশিট বা প্রেজেন্টেশন করার জন্য গুগল ডক্স, শিটস এবং স্লাইডস সরাসরি ব্যবহার করা যায়। ফলে শিক্ষার্থী, অফিসকর্মী বা যারা নিয়মিত অনলাইনে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।
যারা আইফোন, আইপ্যাড বা ম্যাক ব্যবহার করেন, তাদের জন্য আইক্লাউড বেশ কার্যকর একটি ক্লাউড সেবা। এটি পরিচালনা করে অ্যাপল। আইক্লাউডের মাধ্যমে ছবি, কন্টাক্ট, নোট, ব্যাকআপসহ বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপল ডিভাইসগুলোর মধ্যে সিঙ্ক হয়ে যায়। ফলে একটি ডিভাইসে করা কাজ অন্য ডিভাইসেও সহজেই পাওয়া যায়। তবে আইক্লাউডের ফ্রি স্টোরেজ তুলনামূলক কম মাত্র ৫ জিবি।
ক্লাউড স্টোরেজের পুরোনো ও জনপ্রিয় একটি নাম ড্রপবক্স। বিশেষ করে অফিস বা টিমওয়ার্কের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। বড় ফাইল দ্রুত আপলোড ও শেয়ার করার সুবিধার কারণে অনেক পেশাদার ব্যবহারকারী এখনো ড্রপবক্সকে অগ্রাধিকার দেন।
ড্রপবক্সের ইন্টারফেস সহজ এবং বিভিন্ন ডিভাইসে দ্রুত সিঙ্ক করার সুবিধা রয়েছে। তবে ফ্রি স্টোরেজের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক সময় অতিরিক্ত স্টোরেজের জন্য সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।
যদি আপনি বেশি ফ্রি স্টোরেজ এবং গুগলের বিভিন্ন টুল ব্যবহার করতে চান, তাহলে গুগল ড্রাইভ হতে পারে সেরা পছন্দ। অন্যদিকে যারা মূলত আইফোন বা ম্যাক ব্যবহার করেন, তাদের জন্য আইক্লাউড সবচেয়ে সুবিধাজনক। আর যারা নিয়মিত বড় ফাইল শেয়ার করেন বা টিমের সঙ্গে কাজ করেন, তাদের জন্য ড্রপবক্স ভালো বিকল্প হতে পারে।
কেএসকে