পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি মডিউল ধরা পড়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় ফের বড়সড় নাশকতার আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষছে জঙ্গিরা। এই সতর্কবার্তার পরই গোটা শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে দিল্লি পুলিশ।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে দিল্লির একাধিক সংবেদনশীল এলাকা। বিশেষ করে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং রাজ্য দফতরের বাইরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। তল্লাশি চালানো হচ্ছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও কৌশলগত স্থানগুলোতে। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরাও জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সাম্প্রতিক এই সতর্কতা এমন একসময়ে এলো যখন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তানি গ্যাংস্টার তথা জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির একটি মডিউল গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ধৃত নয়জনকে জেরা করে জানা গেছে, তারা দিল্লিতে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি একটি বিখ্যাত মন্দিরে হামলার নীলনকশা তৈরি করেছিল। এমনকি মন্দিরে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এ ছাড়া দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি জনপ্রিয় ধাবায় গ্রেনেড হামলা এবং হরিয়ানার হিসারে একটি সামরিক শিবিরে রেকি করার তথ্যও সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর লালকেল্লায় ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই দিল্লি পুলিশ বাড়তি সতর্ক রয়েছে। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের যুক্ত থাকার সেই স্মৃতি এখনো টাটকা। গোয়েন্দাদের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে আইএসআই-এর নির্দেশে এই নতুন মডিউলটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে সম্ভাব্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন এবং জনাকীর্ণ বাজারগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে চলছে কড়া নজরদারি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি