স্থগিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। ভোটকে ঘিরে এলাকায় শেষ মুহূর্তের উত্তাপ বিরাজ করছে।
এই আসনে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)—এই তিন দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান (কাঁচি)ও প্রচারণা চালিয়েছেন।
নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনভর গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় সরব ছিলেন প্রার্থীরা। রাত পর্যন্ত চলেছে মাইকিং ও স্লোগান। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ঈদের পর থেকে জোরালো প্রচারণা চালান। দলীয় ভেতরে কিছু মতভেদ থাকলেও ধানের শীষের পক্ষে নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে হারানো অবস্থান ফিরে পেতে মাঠে নেমেছেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য রুবেল। তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে চমক দেখিয়েছেন তার স্ত্রী ফরিদা হক দীপা ও মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম।
জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদঅন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই। বড় ভাইয়ের জনপ্রিয়তা ও দলীয় সংগঠনের ওপর ভর করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাদলের মৃত্যুতে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।
ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করা প্রয়োজন। আবার অন্য অংশ নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান এবং সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর প্রতি অসন্তোষের কথাও জানিয়েছেন।
জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ হলে ‘নীরব ভোট বিপ্লব’ ঘটবে এবং তাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “মানুষের সুখে-দুঃখে ৩০ বছর ধরে পাশে আছি। উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবেন।”
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, “পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পেতে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন। আমার ভাইয়ের জনপ্রিয়তাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। শেরপুর-৩ আসনে দুই উপজেলা, ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল