সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাকে কীভাবে দেখা হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

Published

২ ঘন্টা আগে

পড়ার সময়: ৮ মিনিট

সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে তার অনশন ভেঙেছেন। তার এই পদক্ষেপ ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি যে আন্দোলন চলছে, তার ওপর কী প্রভাব ফেলবে সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে হাসপাতাল থেকে একটা ছবি শেয়ার করে সোনাম ওয়াংচুক লিখেছেন, "কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, ডা. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের শীর্ষ সংস্থার সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে আমি ২৬ দিনের অনশন ভাঙলাম।"

"এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন অথবা আমাকে চিঠি লিখেছিলেন। দেশে সহিংসতার আশঙ্কায় এবং বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

"আমি শিগগিরই পৃথক ভিডিওতে এই পরিস্থিতিগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব। ততক্ষণ, আমি আপনাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি কোনো জায়গায় কোনো ধরনের সহিংসতা যাতে না হয়।"

পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে একটা ভিডিও পোস্ট করেন তিনি।

এদিকে, মি. ওয়াংচুকের সুস্থতা কামনা করে সামাজিক মাধ্যমে গভীর রাতে একটা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যেখানে তিনি লিখেছেন, "আমি সোনামজিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী তার দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আগের দৈহিক ওজন ফিরে পান। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, সোনাম জি যেন সুস্থ থাকেন।"

অন্যদিকে, সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, "আমরা স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করছি যে সোনাম স্যার ২৬ দিন পর তার অনশন শেষ ভেঙেছেন। আপনার অসাধারণ সাহস ও ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ, স্যার।"

"আপনি নিজের জীবন বাজি রেখে সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার জীবন এই দেশের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।"

সোনাম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার আগেই, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে বিজেপির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।

বিজেপির প্রবীণ নেতা এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক্স-এ লিখেছেন, "ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ ও আশঙ্কা যথার্থ। সহানুভূতি ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, একে শুধু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান করার মতো একটা আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না। নারীদের বিরুদ্ধে নৃশংস বল প্রয়োগ দেখে আমি গভীরভাবে ব্যথিত।"

অন্যদিকে, বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবেও সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে 'উদাসীনতা' রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

নিশিকান্ত দুবে বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "যিনি পেপার ফাঁস মামলা নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেই শিক্ষা সচিবকে বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীজি।"

শুক্রবার একটা নিরপেক্ষ স্থানে সরকার ও সিজেপি-র আন্দোলনকারীদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখানে কী হয় সেদিকে সকলের নজর রয়েছে।

মেদান্তা হাসপাতালে মি ওয়াংচুক

ছবির উৎস, @Wangchuk66

ছবির ক্যাপশান,

অনশন ভাঙার পিছনে যে কারণ রয়েছে তা ব্যাখ্যা করেছেন মি ওয়াংচুক

'উনি পদত্যাগ না করলে সরকারের ক্ষতি'

অনশন ভাঙার নেপথ্যে যে কারণ রয়েছে তা ব্যাখা করেছেন সোনাম ওয়াংচুক।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, "গত দু'দিন ধরে দর কষাকষি চলছিল। (সরকারের কাছে) আমি লিখিতভাবে আশ্বাস চাইছিলাম। সেটা করতে (তাদের) দু'দিন লাগল। তাই আমাকেও আরও দু'দিন অনশন করতে হলো। প্রয়োজনে আমি আরো কিছুদিন অনশনে চালিয়ে যেতাম।"

"অবশেষে আজ তারা (সরকার) লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছে। যে ছাত্র এবং যুবারা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন বা ২০শে জুলাই 'সংসদ চলো' কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর নেওয়া হবে না। এই ধরনের আন্দোলনে এমন প্রায়শই হয়। আমাকে সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"

"দ্বিতীয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ২০ জনেরও বেশি মৃত শিক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"

তিনি জানিয়েছেন তৃতীয়ত আশ্বাস হিসেবে সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জবাবদিহিতা এবং এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, "আপনারা বলবেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টা কী হলো? প্রথম বিষয় হলো এই নিয়ে তারা আমাকে কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তবে জানিয়েছেন, সংসদে এই নিয়ে চর্চা হবে। এখন আমার সামনে দু'টো রাস্তা ছিল- আমি অনশন চালিয়ে যেতাম এবং সেখানেই শেষ হয়ে যেতাম। আবার আপনাদের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ দুই-তিন সপ্তাহ আগে আমায় অনশন শেষ করার কথা বলেছেন। এও বলেছেন যে আপনার জীবন মূল্যবান, আগামীদিনেও আপনাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে…বেঁচে থাকা দরকার। আমি মনে করি না যে আমরা যা চেয়েছি তা আদায় করতে পারিনি।"

"আমার মাথা ভিন্নভাবে কাজ করে। যদি উনি (ধর্মেন্দ্র প্রধান) পদত্যাগ না করেন তাহলে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না, সরকারের হবে। এই ছোট বিষয়ে আমল না দিয়ে তারা (সরকার) নিজের ক্ষতি করছে। উনি যদি পদত্যাগ করতেন তাহলে অনেক আগেই (সরকারকে ইঙ্গিত করে) ক্ষতি বন্ধ হয়ে যেত।"

এই কারণেই এই বিষয়টা তার কাছে বড় ছিল না বলে জানিয়েছেন মি. ওয়াংচুক।

তার কথায়, "আমার কাছে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমাদের বাচ্চাদের উপর যাতে মামলা না হয়। আপনারা জানেন না, কিন্তু আমি দেখেছি, লাদাখে কীভাবে এফআইআর-এর কারণে তাদের (আন্দলনে সামিল যুবসম্প্রদায়ের) ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে।"

ভিডিও বার্তার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী

ছবির উৎস, @narendramodi/X/screengrab

ছবির ক্যাপশান,

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাগজ ফাঁস মামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করার পরই একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে।

এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা একটা ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সরকার ইতোমধ্যে অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই মামলার সঙ্গে জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর সরকার অতি দ্রুত ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সম্প্রতি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই মামলার শুনানি এবং এক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য বিলের বিষয়েও শীঘ্রই আলোচনা হবে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "আজ আমি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের জন্য বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি। এই বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করেছে এবং গভীর রাতে একটা খসড়া আমার হাতে তুলে দিয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ও কঠোর শাস্তির বিধানের খসড়া শুক্রবার মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের পরামর্শের পরে এটা চূড়ান্ত করা হবে। সোমবার থেকে সংসদের কার্যক্রমের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হচ্ছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিল সংসদে পাশ করার চেষ্টা করা হবে।"

নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এই আন্দোলনের মাঝেই কেন্দ্র সরকার বৃহস্পতিবার উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ করেছে।

পশুপালন ও দুগ্ধ খামার বিভাগের সচিব আইএএস অফিসার নরেশ পাল গাঙ্গোয়ারকে উচ্চশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইএএস অফিসার টিকে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

এই বদলগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের একটা বড় সংস্কার হিসাবে দেখা হচ্ছে। এর আগে অভিষেক সিংকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এনটিএ এনইইটি, সিইউইটি এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকে।

জুন মাসের গোড়ার দিকে সিবিএসই-র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকেও অন-স্ক্রিন মার্কিং নিয়ে বিতর্কের জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনসিইআরটি) থেকে বদলি করা হয়েছিল। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে প্রশাসনিক গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুশান্ত সিং এক্স-এ লেখেন, "কিছু সংবাদপত্রে এমন আখ্যান তৈরি করা হতে পারে যে মোদী সরকার প্রশাসনিক স্তরে পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, যদি এমন গুরুতর অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন না?"

মেদান্তা হাসপাতালে মি. ওয়াংচুক

ছবির উৎস, @Wangchuk66

ছবির ক্যাপশান,

মি. ওয়াংচুক জানিয়েছেন তাকে বিভিন্ন সময়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ করা হয়েছে

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাকে যেভাবে দেখা হচ্ছে

অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে যন্তর মন্তর থেকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপরেও তিনি অনশন ভাঙেননি।

সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যদি তার সঙ্গে দেখা করে এই আশ্বাস দেন যে সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতার বিষয়টা উত্থাপন করা হবে, তবেই ওয়াংচুক তার অনশন ভাঙবেন।

এটা এমন একটা শর্ত ছিল যেখানে সরকারের কাছে সরাসরি কিছু দাবি করা হয়নি। অনেকেই বিষয়টাকে সহজ শর্ত বলেও মনে করেছেন।

আবার অনেকে এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে এটা একতরফা ঘোষণা এবং এক অর্থে সরকারের জন্য জয়।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ভাষ্যকার অপূর্বানন্দ লিখেছেন, "খুবই হতাশাজনক। এখন জবাবদিহিতার বোঝা সরকার থেকে বিরোধী দলের দিকে চলে গেছে। এখন বিরোধী নেতাদের তার (সোনাম ওয়াংচুক) কাছে আসতে হবে এবং তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সংসদের এই অধিবেশনে শিক্ষাকে তারা (বিরোধিরা) একটা ইস্যু হিসেবে তুলে ধরবে। এটা খুবই বিড়ম্বনার বিষয়। আপনি (মি. ওয়াংচুক) জবাবদিহিতাকে বিকল্প বানিয়ে দিয়েছেন এবং সেটাকেই জবাবদিহিতার দাবি হিসেবে মনে করছেন।"

২১শে জুলাই সন্ধ্যায়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন, মি. ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি তা সমর্থন করেননি।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, "প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে যে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে সততা ছিল না। যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের পাশে তার দাঁড়ানো উচিত ছিল। মানুষকে বোকা বানানো যায় না।"

গীতাঞ্জলির প্রতিক্রিয়ায় প্রফেসর অপূর্বানন্দ এক্স-এ লিখেছেন, "এমনকি মৌলিক শালীনতাও শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বিরোধীদের বিক্ষোভকে বদনাম করছেন। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিসহ সব বিরোধী দল যন্তর মন্তরে পৌঁছেছিল এবং তার স্বামীর আন্দোলনে তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তাদের আক্রমণ করছেন।"

সোনাম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সহিংসতার কথা মাথায় রেখে তিনি অনশন ভাঙার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছিলেন, কিন্তু অনশন ভাঙার সময় এই দাবির বিষয়ে উল্লেখ হয়নি। অন্যদিকে, সরকার এই বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে তার অনশন ভাঙার আগেই প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে।

অনেকে এও বলছেন যে আন্দোলন সিজেপি বা সোনম ওয়াংচুক না, দেশের যুবসমাজ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

সোনাম ওয়াংচুকের অনশন শেষে অল্ট নিউজের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রতীক সিনহা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, "এখন তার বাড়ি ফিরে ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সময় হয়েছে। এখানে তার আর প্রয়োজন নেই।"

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার অবিনাশ পালিওয়াল এক্স-এ লিখেছেন, "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটা একটা যুগান্তকারী মুহূর্ত এবং এর প্রভাব ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হবে। ভারতের যুবসমাজ, বিশেষ করে জেন-জি এবং ছাত্রছাত্রীরা, এখন প্রকৃত অর্থে নতুন ভারত কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে শুরু করেছে। তারা শুধুমাত্র তাদের প্রাপ্য সম্মান এবং জবাবদিহিতার অংশটুকু দাবি করছে।"

অভিজিৎ দীপকে

ছবির উৎস, ANI

ছবির ক্যাপশান,

সিজেপি জানিয়েছে নিজেদের দাবিতে তারা অনড়

আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে

নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। সিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২২ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিজেপি-র নেতৃত্বে যে আন্দোলন তার সূচনা হয় ২০শে জুন।

এতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়ে এসেছে।

সোনাম ওয়াংচুক ২৮শে জুন আন্দোলনে যোগ দেন এবং এর কিছুদিন পরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন।

সিজেপি শুক্রবার অর্থাৎ ২৪শে জুলাই দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এবং বিক্ষোভ সংগঠিত করার জন্য জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

গত কয়েকদিনে, দিল্লির পাশাপাশি, কলকাতা, মুম্বাই, বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। শিক্ষার্থীর ও যুবসম্প্রদায়ের পাশাপাশি সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ সেখানে অংশ নিচ্ছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews