সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরের বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বার্গেনস্টকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হতেই কড়া হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের চড়া মূল্যে পোষা প্রক্সি বা সহায়তাকারীদের দিয়ে ঝামেলা পাকানো বন্ধ করতে হবে। আর তা না করলে ইরানকে আবারো ‘চরম মার’ দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকিকে পাত্তাই দেয়নি তেহরান। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা জবাবে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের এই হুমকির যদি কোনো কাজই হতো, তাহলে তারা কি আজ এই মরিয়া অবস্থায় পড়ত?
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতই মুখে বড় বড় কথা বলুক না কেন, আসল কাজটা ইরানই করে দেখায়। বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ট্রাম্প তাদের সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা এবং ওই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির কাজ বাদ দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি বদলে ফেলতে রাজি আছে।
অবশ্য ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় ভ্যান্সের সাথে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে গালিবাফের সাথে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এরই মধ্যে রোববার সঙ্ঘাত কিছুটা কমে আসার খবর পাওয়া গেলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের জিদ ধরে রেখেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উত্তর ইসরাইলকে রক্ষা করার দোহাই দিয়ে যত দিন প্রয়োজন, তত দিনই ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। তবে লেবাননের মাটিতে ইসরাইলের এই সামরিক উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নিজেদের রক্ষা করতে হিজবুল্লাহ যেকোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সূত্র : বিবিসি