গাজা, ৬ আগস্ট – ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বেসামরিক অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মন্ত্রীরা বলেন, এ ধরনের আক্রমণ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, চলমান হামলা গাজা সংঘাত অবসানের লক্ষে নেওয়া আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত রোডম্যাপের আওতায় সংঘাত নিরসনের যে পরিকল্পনা ছিল, এই পরিস্থিতি তাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পুরো গাজায় অবিলম্বে এবং অবাধে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা বলে তারা স্মরণ করিয়ে দেন। মন্ত্রীরা আরও বলেন, গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং জেরুজালেমে ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপ থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
এসব কর্মকাণ্ড মূলত দ্বি রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করছে। তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর তারা জোর দেন।
আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা পুনব্যক্ত করেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই কেবল এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬