মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ‘মি-২৮এনই’ নাইট হান্টার অ্যাটাক হেলিকপ্টার হাতে পেয়েছে ইরান। সম্প্রতি তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এই হেলিকপ্টারগুলোর উপস্থিতির ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তেহরানের আকাশে এসব হেলিকপ্টারকে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করতেও দেখা গেছে।
মেহরাবাদ বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে বেশ কিছু মি-২৮এনই হেলিকপ্টার জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারগুলো তেহরানের ওপর দিয়ে মহড়া দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হাতে আসা এই হেলিকপ্টারগুলোতে বিশেষ 'ডিজিটাল ক্যামোফ্লেজ' বা ছদ্মবেশ ধারণকারী রং ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়াও, এই সংস্করণে মি-২৮এনএম মডেলের উন্নত রোটর ব্লেড এবং শক্তিশালী ধূলিকণা সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিকূল মরু আবহাওয়ায় যুদ্ধ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহদি ফারাহি জানিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার কাছ থেকে সু-৩৫ যুদ্ধবিমান, ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান এবং মি-২৮ হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সম্প্রতি সরবরাহিত এই হেলিকপ্টারগুলো সেই চুক্তিরই অংশ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম চালানে এখন পর্যন্ত মোট ৬টি হেলিকপ্টার ইরানে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার এই ‘ঘাতক’ হেলিকপ্টারটি মূলত শত্রু শিবিরের ট্যাংক বিধ্বংসী হামলা এবং পদাতিক বাহিনীকে আকাশ থেকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে, ৩০ মিমি অটোমেটিক ক্যানন, গাইডেড ও আনগাইডেড রকেট, ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই সামরিক সহযোগিতা ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে ইরানের বিমান বাহিনীর শক্তি ও আকাশপথে হামলার সক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।