কিছুদিন পরপরই কিছু নিম্নরুচির ও নিম্নমেধার মানুষ আমার দাদা ও বাবাকে নিয়ে অযথা উত্তেজনায় ভোগে (এই স্ট্যাটাসের পর আবারও ভুগবে, জানি) বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনা করেন।
যা যুগান্তর পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘বিষয়টা বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোর সময় বেশি চোখে পড়ে। এর কারণ একটাই, আমার আব্বা সবসময় পপুলিজমের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ১৯৭১ এর গল্প, বাঙালির শুধু বাংলাদেশি হয়ে ওঠার কথা, একটি পতাকার নিচে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, ঠাকুরগাঁও পুলিশ স্টেশনে মির্জা আলমগীর প্রথম পাকিস্তানের পতাকা নামান। সম্ভবত বজলার চাচা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দাদা মির্জা রুহুল আমিন তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে ইসলামপুরে চলে যান। সেখানে একটি ছোট বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ডিসেম্বরের পর তিনি ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জীবনে কোনো নির্বাচনেই তিনি হারেননি, হোক তা পৌরসভা, বা সংসদ।
আমার এইচএসসি রেজাল্টের সময় দাদা সিএমএইচে ছিলেন। তখন তার ক্যানসার। আমার ফলাফলে তার যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছিল, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এমনভাবে কেউ কোনোদিন আমাকে অনুপ্রাণিত করেনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি তার কণ্ঠে এনে ফোন এ বলেছিলেন, দাদা, তুমি আমাদের পরিবারের তারা।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ যা কিছু অর্জন, সবই আমাদের মেধা, পরিশ্রম ও সততার ফল। দোয়া করবেন, যেন এভাবেই থাকতে পারি।
মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে মানুষকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তার মধ্যে একটি- তুমি যে জ্ঞান অর্জন করেছিলে, তা দিয়ে কী কাজ করেছ?
আমরা যেন এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে গিয়ে আটকে না যাই—সেই চেষ্টাই করি। জ্ঞান অর্জন করুন এবং সেটা ভালো কাজে লাগান।