বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু আবারও পর্দায় ফিরছেন সামাজিক বাস্তবতার এক দগদগে ক্ষত নিয়ে। গুণী নির্মাতা অনুভব সিনহার নতুন সিনেমা ‘আশশি’-তে একজন সরকারি আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইবিএনএস-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির প্রেক্ষাপট ও নিজের চরিত্র নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। ‘মুল্ক’ ও ‘থাপ্পড়’-এর পর এটি অনুভবের সঙ্গে তাপসীর তৃতীয় কাজ।
সাক্ষাৎকারে তাপসী জানান, ‘আশশি’ সিনেমাটির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান। ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়, আর সেই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে। ছবিতে তিনি ‘রাভি’ নামের একজন সরকারি কৌঁসুলির চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাকে প্রতিনিয়ত এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জঘন্য মামলার আইনি লড়াই লড়তে হয়।
এর আগে ‘মুল্ক’ সিনেমাতেও আইনজীবীর চরিত্রে দেখা গেলেও তাপসী মনে করেন, রাভি চরিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। তার মতে, ‘মুল্ক’-এ তিনি লড়েছিলেন নিজের পরিবারের জন্য, কিন্তু ‘আশশি’-তে তিনি এমন একজন পেশাদার, যার কাছে এটি প্রতিদিনের রূঢ় বাস্তবতা।
চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে তাপসী দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সিনেমার আদালতের সঙ্গে বাস্তবের আদালতের অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাস্তবের আদালত কক্ষগুলোতে এক ধরনের শীতলতা ও বিশৃঙ্খলা থাকে, যা তিনি এই সিনেমায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
ছবিতে তার উপস্থিতি কেন্দ্রীয় চরিত্র কানি কুসরুতির চেয়ে কম হলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তাপসী। তার মতে, স্ক্রিন টাইম বা পর্দায় কতক্ষণ থাকলেন তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রের গভীরতা দিয়ে দর্শকের মনে দাগ কাটা।
পরিচালক অনুভব সিনহার ওপর অগাধ বিশ্বাসের কথা জানিয়ে তাপসী বলেন, শুটিংয়ের সময় তিনি এমনকি মনিটরে নিজের অভিনয়ও দেখেন না। সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে তার চরিত্রের আবেগের যে বিস্ফোরণ ঘটে, তা মূলত ঘুণে ধরা সমাজের প্রতি একজন সচেতন নাগরিকের ক্ষোভেরই প্রতিফলন।
অনুরাগ কশ্যপ বা সুজয় ঘোষের মতো নির্মাতাদের প্রিয় এই অভিনেত্রী আবারও প্রমাণ করলেন বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে সাহসী ও অর্থবহ গল্পে কাজ করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি