আজ ২৫ জুন। বিশ্বসংগীতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘কিং অব পপ’ খ্যাত এই মহাতারকা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তার সেই আকস্মিক প্রস্থান শুধু কোটি ভক্তকেই নয়, স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো বিশ্বসংগীতকে।

এবারের মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে মাইকেল-ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তার জীবনভিত্তিক বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। চলতি বছরের এপ্রিলে মুক্তিপ্রাপ্ত এই বায়োপিক নতুন করে আলোচনায় এনেছে পপসম্রাটের বর্ণিল জীবন, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আকাশচুম্বী সাফল্যের গল্প।

পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকার নির্মাণে এবং লায়ন্সগেট ও ইউনিভার্সাল পিকচার্সের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রায় ১৫৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ইতোমধ্যে ৯৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। ফলে এটি মিউজিক্যাল বায়োপিক ঘরানার ইতিহাসে অন্যতম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

ছবিটিতে মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন, যিনি নিখুঁত অভিনয়, কণ্ঠ ও চিরচেনা নৃত্যভঙ্গিতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এ ছাড়া শৈশবের মাইকেল চরিত্রে দেখা গেছে হুলিয়ানো ভালডিকে। জো জ্যাকসনের ভূমিকায় কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং। তবে চলচ্চিত্রটির সাফল্যের মাঝে কিছু আইনি বিতর্ক সামনে এলেও ছবিটির ব্যবসায়িক সাফল্য বা দর্শকদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং এর সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে হলিউডে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প

খুব অল্প বয়সেই ভাইদের ব্যান্ড ‘জ্যাকসন ৫’-এর সদস্য হিসেবে সংগীতজগতে পথচলা শুরু করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। পরবর্তীতে একক শিল্পী হিসেবে তিনি এমন সব রেকর্ড গড়েন, যা তাকে বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ‘থ্রিলার’, ‘বিলি জিন’, ‘বিট ইট’, ‘ব্যাড’, ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ইউ আর নট অ্যালোন’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গানের মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেন। তার সিগনেচার ‘মুনওয়াক’ নৃত্যভঙ্গি ও অবিশ্বাস্য মঞ্চ পরিবেশনা আজও বিশ্বসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক

মাইকেল জ্যাকসনের ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই ছিল স্পটলাইটের কেন্দ্রে। এলভিস প্রিসলির কন্যা লিসা মেরি প্রিসলির সঙ্গে তার বিয়ে, পরবর্তীতে ড্যাবি রোর সঙ্গে সংসার এবং সন্তানদের নিয়ে নানা গুঞ্জন দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুখরোচক খবর হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারেকে ঘিরে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। আদালতের রায়ে মারে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তদন্তে উঠে আসে, ঘুমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ‘প্রোপোফোল’-এর অতিরিক্ত প্রয়োগই ছিল মাইকেলের অকাল মৃত্যুর মূল কারণ।

সময় পেরিয়েও অটুট জনপ্রিয়তা

মৃত্যুর প্রায় দুই দশক ছুঁইছুঁই সময়ে এসেও মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তায় এতটুকু চির ধরেনি। নতুন প্রজন্মের কাছে তার কালজয়ী শিল্পীসত্তাকে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে নতুন এই বায়োপিক। তার গান, নাচ এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব আজও বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জীবন্ত। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews