রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে আসা সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, খারকিভ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘জেমলিয়াঙ্কি’ গ্রামটি পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এই অগ্রযাত্রার ফলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার বেলগোরোদ সীমান্ত থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মারোচকো জানান, জেমলিয়াঙ্কি গ্রামটি মুক্ত করার মাধ্যমে সীমান্তে একটি ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা অঞ্চল তৈরি করছে মস্কো। এর ফলে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল বেলগোরোদে ইউক্রেনীয় হামলা বা অনুপ্রবেশ ঠেকানো আরও সহজ হবে বলে মনে করছে ক্রেমলিন। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে খারকিভ অঞ্চলের জেমলিয়াঙ্কি গ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বসন্তকালীন অভিযানে রাশিয়া এখন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের হটিয়ে একটি নিরাপদ বলয় তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে।
প্যাট্রিয়টও ঠেকাতে পারছে না রাশিয়ার ‘কিঞ্জল’ : ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাইপারসোনিক মিসাইল ‘কিঞ্জল’ এখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতির কাছে পশ্চিমাদের সরবরাহ করা অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রায় অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। রুশ নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, রণক্ষেত্র থেকে দূরে ইউক্রেনের পেছনের দিকের ঘাঁটিগুলোতে যখন এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্র আঘাত হানে, তখন সেখানে অবস্থানরত সেনাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন (ম্যাক ১০) হওয়ায় কিঞ্জল মিসাইল শনাক্ত করার পর প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিঞ্জল মিসাইল দিয়ে ন্যাটো কর্মকর্তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ইউক্রেন ও মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা ও বিস্ময় হিসেবে দেখা দিয়েছে। সূত্র : তাস।