বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে। টানা তিন বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল। এতে অর্থনীতির পর্যাপ্ত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার সক্ষমতা কমে গেছে।
সংকটে আছে দেশের আর্থিক খাত। কয়েকটি ব্যাংক চালু রাখতে সরকারকে তারল্যসহায়তা দিতে হচ্ছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে। ফলে এখন সরকার চাইলেও অর্থনীতিকে চাঙা করতে অর্থের খরচ বাড়াতে পারছে না।
প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈদেশিক খাতের চাপ কিছুটা কমলেও রপ্তানি আরও দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যে আবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতির আরও ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, রপ্তানি দুর্বল হতে পারে, প্রবাসী আয় কমতে পারে, আর তাতে চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়বে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে টাকার আরও অবমূল্যায়নের আশঙ্কা আছে, যা মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়াবে। এখন জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাড়লে সরকারের আর্থিক জায়গা আরও সংকুচিত হবে।
সব মিলিয়ে, অর্থনীতি আগে থেকেই সমস্যায় ছিল, ছিল নানা ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতা। আর এখন সেই অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ অবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে, আস্থা পুনরুদ্ধার করতে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে আরও টেকসই রাখতে একটি সুসংগঠিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কৌশল দরকার, আর এর সঙ্গে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার।