আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের পেগুইস ফার্স্ট নেশন কমিউনিটিতে জোরদার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ করে যেসব বাসিন্দার গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
উইনিপেগ শহর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই আদিবাসী কমিউনিটিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছে। কমিউনিটির স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ডেনিস বিয়ার জানান, মোট ৩২ জন বাসিন্দাকে ‘প্রায়োরিটি ওয়ান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরা এমন ব্যক্তি, যাদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন রয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতিতে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
- Advertisement -
তার মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ২৬ জন এখনও কমিউনিটিতেই অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নার্স বিয়ারের ভাষায়, “আমরা তাদের সামনে বিকল্প খোলা রেখেছি। কেউ চাইলে এখনই যেতে পারেন, আবার কেউ পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
যেসব বাসিন্দাকে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদেরকে কানাডিয়ান রেড ক্রসের সহযোগিতায় কমিউনিটি থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সেলকার্ক শহরের একটি হোটেলে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। তবে বাকি প্রায়োরিটি তালিকাভুক্তদের কখন সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
বর্তমানে বৃহৎ পরিসরে পুরো কমিউনিটির মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কমিউনিটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে প্রায় ৫ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সেলকার্ক, উইনিপেগ এবং ব্র্যান্ডনের মতো বড় শহরে তাদের স্থানান্তর করা হতে পারে।
এদিকে, বন্যা প্রতিরোধে ব্যাপক অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে কমিউনিটিতে ৫ লাখেরও বেশি বালুর বস্তা এবং ১১ হাজারের বেশি সুপার স্যান্ডব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব বালুর বস্তা ব্যবহার করে প্রায় ২২৫টি বাড়ির চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ তৈরি করা হয়েছে, যাতে বন্যার পানি ঢুকে পড়তে না পারে।
এর পাশাপাশি, স্থানীয় পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটির বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে আরও ৩ হাজারের বেশি বালুর বস্তা প্রস্তুত করেছেন, যা জরুরি মুহূর্তে কাজে লাগানো হবে।
পেগুইস ফার্স্ট নেশনে বন্যা মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রস্তুতির এক সমন্বিত চিত্র দেখা যাচ্ছে। যদিও এখনো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো পূর্বাভাস নেই, তবুও ঝুঁকি এড়াতে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- Advertisement -