যুগের পর যুগ যায়। মন্ত্রী, সচিব, খেলোয়াড় সবকিছুই বদলায়। তবে বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র খুব একটা বদলায় না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিবন্ধিত ৫২টি ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন আছে। অনেক খেলা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানেই না, তার ধরন কী! বছরের পর বছর এভাবেই কাটে। তবে এবার ক্রীড়াঙ্গনে দিন বদলের অঙ্গীকার করলেন নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় তিনি জানালেন, তৃণমূল থেকে উন্নতি করতে হবে। স্কুল থেকেই শুরু করতে হবে ক্রীড়া প্রতিভার অন্বেষণ।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। ক্রীড়াঙ্গনের সবার চেনা মুখ। দীর্ঘদিন নিজে খেলেছেন। বর্তমান সরকারি দল বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করেছেন তিনি। এবার সেসব বাস্তবে রূপ দিতে চান। গতকাল খোলামেলা আলোচনায় অনেক বিষয়ই উঠে এসেছে। তবে প্রাধান্য পেয়েছে তৃণমূলে ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রতিভা অন্বেষণ, সজনপ্রীতি-দলপ্রীতি বাদ দিয়ে যোগ্য ও দরদি ক্রীড়া সংগঠকদের সামনে নিয়ে আসা, স্কুলের শিক্ষা কারিকুলামে সম্ভাবনাময় খেলার অন্তর্ভুক্তি এবং সম্ভাবনাময় খেলার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি। তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত ও বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’ এ ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামের চেয়ে খোলা মাঠ তৈরির দিকে মনোযোগী হবেন আমিনুল। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, স্টেডিয়াম হলে বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষ খুব বেশি উপকৃত হতে পারবে না। খোলা মাঠ হলে সবাই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে। বিদ্যমান ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ এবং এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করার ওপরও জোর দেওয়া হয় এ মতবিনিময় সভায়।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করতে চান বলে জানিয়েছেন। দুই জনপ্রিয় খেলা ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য তিন খেলা কোনটি হতে পারে এনিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চান তিনি। ক্রীড়া সাংবাদিকরা কারাতে, দাবা, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিক্সকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছেন আমিনুল হক। ৫২টি তালিকাভুক্ত ক্রীড়া ফেডারেশন থাকলেও সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা নিয়ে আলোচনা হয়। এখানে ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি হকির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ওঠে আসে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কথা দেন, হকিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু ক্রীড়া ইভেন্টে বাংলাদেশের সামনে আছে দারুণ সম্ভাবনা। বিশেষ করে আরচারি ও শুটিংয়ের নাম বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়। সাংবাদিকরা এ ছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট স্বল্পতা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠন প্রক্রিয়া, গত এক যুগের পারফরম্যান্স বিচারে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে গ্রেডিংয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তাছাড়া সময়োপযোগী ক্রীড়া নীতি তৈরি করার বিষয়টিও আলোচনা। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রস্তাব, মতামতগুলো শুনেছি। এটা আজ শুনলাম, এখানেই শেষ না। এখান থেকে কাজের শুরু। এগুলো পর্যালোচনা হবে, প্রয়োজনে কমিশন বা কমিটি হয়ে তদারকি চলবে।’ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থ স্থান পল্টন-গুলিস্তান। সে এলাকা সন্ধ্যার পর থেকে মাদকের অভয়ারণ্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, গতকাল সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews