ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে যুদ্ধ অবসানে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা মস্কোর আগ্রাসন বন্ধ করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা, যুদ্ধ থামাতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ ধাপ।

তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো সাফল্য আসেনি।

বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে তিন পক্ষের প্রথম দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পর কিয়েভ একে ‘গভীর ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করে। তবে এই আলোচনায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।

এই সংঘাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। এতে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে ও লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার বলেন, তার দেশের ৫৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন।

দু’পক্ষের যে কোনো এক পক্ষ থেকে যুদ্ধ-ক্ষতির এমন মূল্যায়ন খুব কমই দেখা যায়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরো জোরদার করেছে রাশিয়া। এতে রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বহু অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় তারা তীব্র শীতে কাঁপছে।

আলোচনায় ইউক্রেনের প্রধান প্রতিনিধি রুস্তেম উমেরভ জানান, বৈঠকের প্রথম দিনে ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও বাস্তবসম্মত সমাধান’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে ক্রেমলিন তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিয়েভ সরকার উপযুক্ত সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত’ লড়াই চলতেই থাকবে।

আলোচনার প্রধান জটিলতা পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে।

মস্কো দাবি করছে, যে কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে কিয়েভকে দোনবাসের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

এ সব অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ও শক্তভাবে সুরক্ষিত শহর রয়েছে।

এ ছাড়া আগ্রাসনের সময় দখল করা ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ার দাবিও তুলেছে মস্কো।

অন্যদিকে কিয়েভ বলছে, বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে সংঘাত স্থগিত করা উচিত। তারা সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারকে আলোচনায় সম্পৃক্ত করেছে।

এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি টিখি দ্বিতীয় দফা আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী চায়- কিয়েভ তা জানতে আগ্রহী।

‘পুতিন শুধু ট্রাম্পকেই ভয় পান’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফরাসি টেলিভিশনকে বলেন, ‘পুতিন শুধু ট্রাম্পকেই ভয় পান।’

তিনি আরো বলেন, পুতিনের ওপর চাপ বজায় রাখতে ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে পারেন। একই সাথে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহও বাড়াতে পারেন।

তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানান, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কিয়েভ কোনো ছাড় দেবে না।

বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে। মস্কো লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করছে। পাশাপাশি পূর্ব ইউক্রেনের আরো অন্তত তিনটি অঞ্চলের কিছু অংশও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এলাকা এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইউক্রেন সতর্ক করে বলেছে, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিলে তা মস্কোকে আরো উৎসাহিত করবে।

একই সাথে তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার পুনরায় আগ্রাসন ঠেকাতে সক্ষম নয়- এমন কোনো চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করবে না।

সূত্র : বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews