বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর ব্রাজিল শিবিরে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোল আশার আলো দেখিয়েছে, অন্যদিকে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে দলের আক্রমণভাগ ও কোচ কার্লো আনচেলোত্তির কৌশল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিলের খেলায় প্রত্যাশিত ছন্দের অভাব ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে নেইমারবিহীন সেলেসাওদের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতি চোখে পড়ে। ম্যাচের শুরুতে মরক্কোর আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলোত্তি বলেন, “প্রথম ম্যাচ সব সময়ই কঠিন হয়। আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি, তবে দল চরিত্র দেখিয়েছে। পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসতে পেরেছে, এটিই ইতিবাচক দিক।”
তবে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ও সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই মনে করছেন, দলটি এখনও নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোর মিস করা সহজ সুযোগগুলো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারত বলে মত তাদের।
এদিকে ম্যাচের সেরা পারফর্মার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার অসাধারণ একক নৈপুণ্যে করা গোলটি শুধু ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করেনি, দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবেও তাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস বলেন, “আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটি বিশ্বকাপ, এখানে প্রতিটি ম্যাচ কঠিন। এখন সামনে তাকাতে হবে।”
অন্যদিকে মরক্কো শিবিরে ড্রয়ের ফলটিকে প্রায় জয়ের সমান হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে এক পয়েন্ট অর্জন করে আত্মবিশ্বাসী আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দলের গোলদাতা ইসমাইল সাইবারি বলেন, “আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে বড় দলের বিপক্ষেও লড়াই করা সম্ভব।”
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে প্রথম ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়ের সংগ্রহ এক পয়েন্ট। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের সামনে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ‘মাস্ট-উইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শিরোপা প্রত্যাশী ব্রাজিলকে পরের ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক ও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে। অন্যথায় বিশ্বকাপের শুরুতেই তাদের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলেও ব্রাজিল শিবিরে এখনো আশাবাদ রয়েছে। তবে সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পরের ম্যাচেই জয়ের ধারায় ফিরতে হবে সেলেসাওদের।