টঙ্গীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাসুদ। মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ব্যাংকে জমিয়েছেন দুই লাখ টাকা। গতকাল সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ৪টি এসএমএস। প্রত্যেকটা এসএমএসেই দেখা গেছে ৫০ হাজার করে টাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও। শুধু মাসুদই নয়- গত কয়েকদিনে ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের টাকা তাদের অজান্তে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল গাজীপুরের টঙ্গীর ইসলামী ব্যাংকের শাখায় কথা হয় শিক্ষক মাসুদের সাথে। তিনি বলেন, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মোবাইলে ইসলামী ব্যাংকের চারটি এসএমএস। সেগুলো পড়ে দেখি চারটি এসএমএসের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা আমার অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা হয়েছে। এরপর ব্যাংকে গিয়ে কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পর তারা সংশ্লিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করেন। এরপর জানতে পারেন এনআরবিসি ব্যাংকের এক গ্রাহকের একাউন্টে সেলফিন অ্যাপ থেকে টাকাগুলো ট্রান্সফার হয়েছে। ওই গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের নাম শাহ ট্রেডার্স। তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১২৯৩৩০০০০০৩৭৯। এনআরবিসি ব্যাংকের মিরপুর শাখায় টাকাগুলো ট্রান্সফার হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় সাধাণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এনআরবিসি ব্যাংকের মিরপুর শাখার সেকেন্ড অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, গত কয়েকদিন যাবৎ আমরা এমন অভিযোগ গ্রাহকদের কাছ থেকে পেয়ে আসছি। কয়েকজন গ্রাহক বলেছেন কারো ১২ লাখ, কারো ৯ লাখ, কারো ১৬ লাখ টাকা খুইয়েছেন।
তিনি বলেন, এটা একটা প্রতারক চক্র। অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের পিন নম্বর হ্যাক করে অ্যাপের মাধ্যমেই টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে তিনি আমাদের গ্রাহক। তিনি অ্যাপের মাধ্যমেই টাকাগুলো তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করছে। আমরা এ বিষয়ে হেড অফিসকে জানিয়েছি। ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, থানায় জিডি হয়ে থাকলে আমরা প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবো। তিনি আরো বলেন, অনেক প্রতারক গ্রাহকের পিন নম্বর চেয়ে কল বা লিঙ্ক পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করে গোপন জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।