আমাদের একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ আগের মতো নেই। ধীরে ধীরে এটি ছোট হয়ে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের বুকে এক হাজারের বেশি নতুন ফাটল তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে চাঁদ ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজের গবেষকেরা এই তথ্য দিয়েছেন। তাদের মতে, চাঁদের ভেতরের অংশ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হচ্ছে। ভেতর ঠান্ডা হলে বাইরের অংশ সঙ্কুচিত হয়। ঠিক যেমন গরম লোহা ঠান্ডা হলে ছোট হয়ে যায়। চাঁদের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটছে।
এই সংকোচনের ফলে চাঁদের মাটিতে চাপ তৈরি হয়। তখন এক অংশ অন্য অংশের ওপর উঠে যায়। এতে পাহাড়ের মতো উঁচু শৈলশিরা তৈরি হয়। একে বলা হয় লোবেট স্কার্পস। আগে এসব গঠন চাঁদের উচ্চভূমিতে দেখা গেছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার সমতল অঞ্চল, যাকে লুনার মারিয়া বলা হয়, সেখানেও একই ধরনের ফাটল ধরা পড়েছে। এসব নতুন ফাটলের নাম দেওয়া হয়েছে স্মল মেয়ার রিজ।
গবেষণায় মোট ১ হাজার ১১৪টি নতুন ফাটল চিহ্নিত হয়েছে। এখন চাঁদে এ ধরনের ফাটলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৪। বিজ্ঞানীদের ধারণা, গড়ে এসব ফাটলের বয়স প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বছর।
বিজ্ঞানী কোল নাইপাভার বলেন, চাঁদ নিয়ে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। সামনে আর্টেমিস মিশন আসছে। মানুষ আবার চাঁদে যাবে। তাই চাঁদের ভূমিকম্প বা চন্দ্রকম্পের বিষয়টি জানা খুব জরুরি। কারণ ভবিষ্যতে সেখানে কাজ করতে গেলে এই কম্পন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, চাঁদের ভেতরের গঠন, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও ভূমিকম্পের ইতিহাস বোঝার জন্য এই নতুন তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল