মহাকাশ গবেষণায় আধিপত্য বিস্তারের দৌড় এখন আর কেবল বিজ্ঞান বা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রূপ নিয়েছে এক স্নায়ুযুদ্ধে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদে অবতরণ এবং সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দৌড়ে চীনকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সাম্প্রতিক শুনানিতে তারা সতর্ক করেছেন যে, মহাকাশে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন হাউস সাব-কমিটির শুনানিতে আইনপ্রণেতারা জানান, চীন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের মহাকাশ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা মহাকাশকে কেবল বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র নয়, বরং কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে মহাকাশ প্রযুক্তির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বেইজিং তাদের প্রভাব বলয় বড় করছে। কংগ্রেস সদস্যদের মতে, মহাকাশ এখন এক সংঘাতপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের স্যাটেলাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের বিশেষ কক্ষপথের কসরত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, চীন কক্ষপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। শুধু তাই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সেখানে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র তৈরির যে পরিকল্পনা চীন নিয়েছে, তা সফল হলে মহাকাশের আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও মানদণ্ড নির্ধারণে বেইজিং একক ক্ষমতা পেয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, যদি তারা এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে, তবে মহাকাশের তথ্যের প্রবাহ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এদিকে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু বা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর দখল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা আগামী কয়েক বছরে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহাকাশের এই ‹নতুন স্নায়ুযুদ্ধ› শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।