কখনো কখনো সময় থেমে যায় না, নীরবে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকে কোনো মানুষের সামনে। যিনি পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে ইতিহাস নতুন করে লেখেন। তেমনই এক নাম জোবেরা রহমান লিনু। বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার পর শনিবার এক আবেগঘন, স্মৃতিমাখা, ভালোবাসা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিনুর পরিবারের সদস্য, সাবেক ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিকসহ নানা অঙ্গনের মানুষ।
জোবেরা রহমান লিনুর নাম বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের সঙ্গে উচ্চারণ হয় এক নিশ্বাসে। ১৬ বার জাতীয় নারী চ্যাম্পিয়ন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্ত, ইউনিসেফ বাংলাদেশ দূত। টেবিল টেনিসের পাশাপাশি সাইক্লিংয়েও রয়েছে তার পদকের ঝলক। খেলোয়াড়ি জীবন পেরিয়ে তিনি সংগঠক, যুক্ত ছিলেন টেবিল টেনিস ফেডারেশন, সাইক্লিং এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে। সেখানে ফুটে ওঠে লিনুর শৈশব, পরিবারের ত্যাগ, সংগ্রাম এবং অদম্য যাত্রা। দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বহু বছর আগের সেই পথচলায়, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল লড়াইয়ের। ভিডিও শেষে মঞ্চে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন লিনু। তিনি বলেন, তার লিনু হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার বাবা। পাশে ছিলেন বোন হেলেন, যিনি ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী। কঠোর পরিশ্রম, সীমাহীন সাধনা আর পরিবারের সহায়তাই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কামরুজ্জামান ভাই, মঞ্জু ভাইয়ের মতো সাংবাদিকরা আমার জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তাদের লেখা, ছবি আর উৎসাহ আমাকে এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক কামরুজ্জামান বলেন, ‘লিনু বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের রানি। তার স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গর্বের বিষয়।’