কানাডার রাষ্ট্রীয় ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান কানাডা পোস্ট আবারও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখতে বিপুল অঙ্কের সহায়তা দিচ্ছে ফেডারেল সরকার। মন্ত্রিসভার বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত এই ক্রাউন কর্পোরেশনকে সর্বোচ্চ ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত তাদের পরিচালন ব্যয় ও আয়ের ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

সরকারি এই সহায়তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত বছরও সরকার কানাডা পোস্টের জন্য ১০৩ কোটি ডলার নগদ সহায়তা অনুমোদন করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট এতটাই গভীর যে প্রাথমিক বরাদ্দ পর্যাপ্ত হয়নি। পরবর্তীতে আরও ১০০ কোটি ডলারের ফেরতযোগ্য তহবিল দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কানাডা পোস্টকে টিকিয়ে রাখতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরকারি সহায়তা প্রয়োজন হয়েছে।

- Advertisement -

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট সাময়িক নয়; বরং এটি কানাডার ডাকসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। ইয়ান লি, যিনি কার্লটন ইউনিভার্র্সিটির ব্যবসায় প্রশাসনের অধ্যাপক, বলেছেন যে শুধু বর্তমান সহায়তা দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাঁর মতে, পুরো বছর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আরও কয়েকশ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, ২০২৫ সালে কানাডা পোস্ট কর-পূর্ব প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার লোকসানের মুখে পড়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।

একসময় কানাডা পোস্ট ছিল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তার, ই-মেইল ও অনলাইন বিলিং ব্যবস্থার কারণে প্রচলিত চিঠিপত্র আদান-প্রদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি কুরিয়ার ও ডেলিভারি কোম্পানির প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমলেও পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মজুরি বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশ এবং কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে কানাডা পোস্ট ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছিল। এই সময় কর্মীরা কয়েক দফা কর্মবিরতি পালন করেন, যার ফলে ডাক ও পার্সেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। দীর্ঘ আলোচনা ও বিরোধের পর কর্মীরা নতুন চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এতে আপাতত শ্রমিক অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

কানাডা পোস্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই। তাদের প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি মেইলবক্সের ব্যবহার বাড়ানো, কিছু স্থানীয় পোস্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিচালন কাঠামো আরও আধুনিক করা। কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান ব্যবসায়িক বাস্তবতায় পুরোনো মডেলে পরিচালনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে এসব পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, পোস্ট অফিস বন্ধ হয়ে গেলে বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ ডাকসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

কানাডা পোস্ট এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সরকারি সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে কার্যকর সংস্কার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews