মহান মাস রমাদান যা সমাপ্তির দিকে চলে এসেছে। দিনগুলো দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে এবং রাতগুলো বিদায় নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাতগুলো আসছে দশটি আলোকিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম (সুরা ক্বদর : ১-৩)। তাই দশটি আলোকিত রাত যার প্রতিটি মুহূর্ত একটি ধনভান্ডারে পরিপূর্ণ যার প্রতিটি সিজদাহ মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর প্রতিটি ঘণ্টা রহমত ও বরকতে ভরপুর। এ রাতগুলোতে আল্লাহর অনুগ্রহ প্রকাশ পায়, মুক্তির দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং ক্ষমা অবতীর্ণ হয়। এই রাতগুলোতে নবী (সা.) অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে দেখা যেত না। তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং দোয়া করতেন, মনে হতো এটা শেষ সুযোগ। নবী (সা.) রমাদানের আগমনে তাঁর সাহাবিদের বলতেন : তোমাদের নিকট রমাদান এসেছে এটি এক বরকতের মাস আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসের সিয়াম ফরজ করেছেন এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয় (বুখারি-মুসলিম)। রমাদানে এমন এক রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত বঞ্চিত হলো (সুনানে নাসাঈ, মুসনাদে আহম্মদ)।

রমাদানে আমরা মহান ফজিলতময় দিনগুলোর মধ্যে অবস্থান করছি। সুতরাং এই সময়কে হেলায় নষ্ট করা উচিত নয় বরং আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আল্লাহকে ভয় করে উত্তমভাবে সিয়াম পালন করা আবশ্যক। সওয়াব কমিয়ে দিতে পারে এমন কর্ম থেকে নিজেদের দূরে রাখি এবং দিন ও রাতের প্রতিটি মুহূর্তকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কাজে লাগাই। রমাদান ইবাদত ও তওবার মাস, আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাস। এটি সাধনা ও পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মশুদ্ধির মাস। তাই বয়স ও অতীতকর্মের কথা চিন্তা না করে একনিষ্ঠচিত্তে অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর ঐ বাণীর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তওবাহ করি যা মহান আল্লাহ বলেছেন ‘হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আমার রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল পরম করুণাময় (জুমার-৫৩)। তাই আসুন! তওবা করে আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করার জন্য এই সময়কে ফরজ, সুন্নাহ ও বেশি বেশি নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাছবিহ, তাহলীল ও রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাই হি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত ও সালাম পাঠের মাধ্যমে সময় কাটাতে রত থাকি। এগুলোকে গনিমত মনে করত অশ্রুসিক্ত নয়নে কাকুতিমিনতি করে ক্ষমা চাই এবং বাবা-মা ভাই- বোন স্ব-স্ব অবস্থান থেকে স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, মুমিন নরনারীসহ মুসলিম দেশগুলোর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করি।

অধিকন্তু জাকাত ও সাদাকা আদায় মিসকিনদের আহার ও সিয়াম পালনকারীদের ইফতারের ব্যবস্থা করে নেকির পাল্লা ভারী করি। রসুল (সা.) বলেছেন সিয়াম হলো ঢালস্বরূপ যার মাধ্যমে বান্দা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে (বুখারি)। এই লক্ষ্য তখনই পূর্ণ হবে যখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিরত থাকবে পাপ ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে, জবান সংযত থাকবে অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে কথাকে রক্ষা করা হবে আঘাতমূলক ও হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টিকারী বাক্য থেকে দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে, হারাম থেকে পদক্ষেপ বিরত রাখতে হবে, পাপের পথে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাত প্রসারিত থাকবে দান ও কল্যাণের কাজে। বড় প্রাপ্তি হচ্ছে সিয়াম পালনকারীদের পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন (বুখারি-১৯০৪)।

কাজেই আমলের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আগেই এই মহিমান্বিত মাসের কল্যাণ লাভের দিকে অগ্রসর হই কেননা আরেকটি রমাদান আমাদের জীবনে আসবে কিনা। জানা নেই। হে পবিত্র সত্তা আল্লাহ! আমাদের আপনার মহিমান্বিত মাসের যাবতীয় কল্যাণ বিশ্ববাসীর নেতা মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.) সুন্নাহ মোতাবেক একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমল করার তওফিক দান করুন। অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার, সাহাবি এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

লেখক : ইসলামিক গবেষক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews