বাংলাদেশে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সুশাসন কোনো একক দল, সরকার বা ব্যক্তির জন্য নয়; এটি সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য অপরিহার্য। সুশাসন বজায় থাকলে ক্ষমতায় থাকাকালে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়, আর ক্ষমতা হারালেও অন্যায় প্রতিহিংসা, হয়রানি বা অবিচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। আখেরে সুশাসন সবার জন্য কল্যাণকর। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা অনেক সময় বেমালুম ভুলে যান, সুশাসন না থাকলে হয়তো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা সহজ হবে। বাস্তবে এটি রাজনৈতিক মহা ভুল ধারণা। কারণ, সুশাসন দুর্বল হলে শুধু বিরোধী পক্ষ নয়, একসময় ক্ষমতাসীনরাও সেই একই অন্যায় ব্যবস্থার শিকার হতে পারেন। ক্ষমতা হারানোর পর কুশাসন, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের দায়ে জবাবদিহির ভয় তৈরি হয়; অনেক সময় সেই ভয় থেকে ক্ষমতাচ্যুত শাসকদের দেশ ছাড়তে দেখা যায়। এর উদাহরণ অসংখ্য। তাই দেশকে স্থিতিশীল রাখতে স্বাধীন বিচার বিভাগ হতে পারে ভারসাম্য বজায়ে রাখার কার্যকর উপায়। আজকের এই প্রবন্ধের লক্ষ্য- বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্কটের শিকড় চিহ্নিত করা। একটি বাস্তবসম্মত সংস্কার-রূপরেখা প্রস্তাব করা।

রূপরেখার মূল ভিত্তি তিনটি :

১. নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

২. যোগ্যতা, উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগের কার্যকর পদ্ধতি প্রস্তাব করা।

৩. বিচার বিভাগের নিজস্ব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

এই তিন বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। ন্যায়বিচার ক্রমে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কারণ স্বাধীন বিচার বিভাগই সুশাসনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

সমস্যার শিকড় : বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্কট বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে, ব্যবস্থাটা আদতে কার জন্য তৈরি হয়েছিল। আমরা যে বিচারকাঠামো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেটি কোনো স্বাধীন, ন্যায়বিচারমুখী সমাজের জন্য গড়া হয়নি। এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের হাতিয়ার, যেখানে আইনের কাজ ছিল নিয়ন্ত্রণ করা, শ্রেণী বিভাজন রক্ষা করা, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পাকাপোক্ত করা। দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নৈতিক বিচার নিশ্চিত করা সেখানে লক্ষ্য ছিল না।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পতাকা, সংবিধান আর রাজনৈতিক পরিচয় বদলেছে ঠিকই; কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরটা সেভাবে বদলায়নি। ঔপনিবেশিক অভ্যাস ও কাঠামো এখন অনেকটাই অক্ষত। আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা ও বিচারকরা এমন ভাষায় কথা বলেন, যা সাধারণ মানুষ বোঝেন না; এমন প্রক্রিয়া চলে যা সাধারণ মানুষ সামলাতে পারেন না; এমন দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষ সহ্য করতে পারেন না। বিচার তাই হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল, ভীতিকর এবং একটি বিশেষ পেশাগত শ্রেণীর একচেটিয়া বিষয়।

জুলাই সনদে বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব আছে, যা এ লেখার অনেক দাবির সাথে মিলে যায়। সবকিছু একসাথে সম্ভব না হলেও সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করে আমরা এগোতে পারি, সেটিই হোক শুরু। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যে এ বিষয়ে আন্তরিক নয়, তা বোঝা কঠিন নয়। তাই একমাত্র পথ হলো নাগরিকদের সচেতন করে ন্যায়বিচারের বিতে একজোট হওয়া।

রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখিতা
বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার দাবি বাংলাদেশে নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সব দল এ কথা বলে আসছে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সেই প্রতিশ্রুতির কথা আর মনে থাকে না। কারণটা সহজ। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো দল চায় না, বিচার বিভাগ সত্যিকারের স্বাধীন হোক। ক্ষমতার ওপর নজরদারি করুক। তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নির্বাচনী বক্তৃতায় থাকে, বাস্তবে আসে না।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, এক-এগারোর শাসনকাল এবং শেখ হাসিনার বিগত দেড় দশকের শাসনামলের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই কঠিন বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। তাই বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে ক্ষমতার পালাবদল হলেও অন্যায়ের চক্র ভাঙে না; বরং একসময় সবাই সেই ব্যবস্থার শিকার হতে পারেন।

অথচ রাষ্ট্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ আলাদা না থাকলে, ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো যায় না। যে বিচারব্যবস্থা নির্বাহী প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন, কারণ বিচারক তখন আইনের নয়, ক্ষমতার সেবক হয়ে পড়েন।

প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামো
মূল প্রশ্ন হচ্ছে, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস না করেও ব্যবস্থাটি নিজে কীভাবে সঠিক মানুষ বেছে নেবে এবং ভুল ব্যক্তিকে ছেঁকে বাইরে রাখবে?

ধাপ-১ : স্বাধীন বিচারক নির্বাচন কমিশন গঠন
বিচারক নিয়োগ সরকারের হাতে থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকানো কঠিন। তাই প্রথম কাজ হলো একটি স্বাধীন বিচারক নির্বাচন কমিশন গঠন করা, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।

এই কমিশনের সদস্য হবেন- অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, যাদর দলনিরপেক্ষ সুনাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রতিনিধি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। ধর্মীয় ও নৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন বিদ্বান ব্যক্তি।

কমিশনের সদস্যরা নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করবেন। তাদর সরানো যাবে কেবল সংসদীয় গুরুতর অভিযোগের মাধ্যমে, সরকারের ইচ্ছায় নয়।

ধাপ-২ : পাঁচ স্তরের বহুমাত্রিক যাচাই প্রক্রিয়া
শুধু পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারে যোগ্যতা যাচাই করা যথেষ্ট নয়। একটি পাঁচ স্তরের বহুমাত্রিক যাচাই পদ্ধতি এখানে আসল পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

প্রথম স্তর : লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা
আইনি জ্ঞান, যুক্তিবোধ এবং নৈতিক সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। প্রশ্নপত্রে কেবল আইনের ধারা থাকবে না, বাস্তব জীবনের কঠিন নৈতিক পরিস্থিতিও থাকবে।

দ্বিতীয় স্তর : চারিত্রিক তদন্ত
প্রার্থীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার আচরণ, সততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন খতিয়ে দেখা হবে। এই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে- সহকর্মী, প্রতিবেশী ও সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের সাক্ষ্য। এতে থাকবে আর্থিক স্বচ্ছতার নথি। অতীতের পেশাদার আচরণের রেকর্ড।

তৃতীয় স্তর : নৈতিক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন
আইনি জ্ঞান বা বাইরের চরিত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি একজন বিচারকের ভেতরের নৈতিক কাঠামো বোঝাও জরুরি। সেজন্য মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন এখানে অপরিহার্য। এ পরীক্ষায় থাকবে-

ক. নৈতিক যুক্তিবোধ পরীক্ষা
প্রার্থীকে জটিল নৈতিক দ্বন্দ্বের পরিস্থিতিতে রাখা হবে, যেখানে আইন ও বিবেক, ক্ষমতা ও ন্যায়, ব্যক্তিস্বার্থ ও জনস্বার্থ পরস্পরের মুখোমুখি। তার সিদ্ধান্ত ও যুক্তি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

খ. ক্ষমতার প্রতি মনোভাব যাচাই
মানুষ ক্ষমতা পেলে কেমন হয়, সেটি আগে থেকে বোঝার চেষ্টা করা হবে। এ পরীক্ষায় দেখা হবে- প্রার্থী কি ক্ষমতাকে সেবার মাধ্যম মনে করেন, নাকি মর্যাদার প্রতীক? চাপের মুখে তিনি কি নীতিতে অটল থাকেন, নাকি সুবিধাবাদী হয়ে পড়েন? তিনি কি দুর্বলের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ক্ষমতাবানের প্রতি নির্ভীক?

গ. পক্ষপাত ও পূর্বধারণা চিহ্নিতকরণ
প্রতিটি মানুষের মধ্যে কমবেশি অচেতন পক্ষপাত থাকে, শ্রেণী, লিঙ্গ, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে। মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় এ পক্ষপাতগুলো চিহ্নিত করা হবে, প্রার্থী এ সম্পর্কে সচেতন কি-না এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কি-না, সেটি বোঝাই লক্ষ্য।

ঘ. চাপ সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তা পরীক্ষা
বিচারককে অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক নিন্দা বা ব্যক্তিগত হুমকির মধ্যেও রায় দিতে হয়। সেজন্য দেখা হবে- তিনি মানসিক চাপে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি-না। ভয় বা প্রলোভনে তার নৈতিক অবস্থান কতটা অটল থাকে।

ঙ. সততার প্রতি মূল্যবোধ যাচাই
এই অংশে দেখা হবে প্রার্থী, নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন কি-না। অন্যায় সুবিধা প্রত্যাখ্যানের মানসিকতা রাখেন কি-না। সত্যকে সুবিধার চেয়ে বড় মনে করেন কি-না। এ মূল্যায়ন পরিচালনা করবেন- স্বাধীন ও অরাজনৈতিক ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী। থাকতে হবে নৈতিক দর্শনের বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজনে প্রযুক্তি ও তথ্য-বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞ রাখতে হবে। কারণ, প্রার্থীর আচরণগত ধারা, পক্ষপাতের আশঙ্কা, অসঙ্গতি ও ঝুঁকির জায়গা শনাক্ত করা হবে এর কাজ। চূড়ান্ত রায় সব সময় মানব বিশেষজ্ঞ, নৈতিক মূল্যায়ন এবং সামগ্রিক যাচাইয়ের ভিত্তিতে হবে।

শুরুতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এ কাঠামো গড়া যায়। পরে দেশীয় সক্ষমতা তৈরি হলে এটি পুরোপুরি স্বনির্ভর হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এই পরীক্ষার ফল একমাত্র বিবেচনা হবে না; বরং অন্য সব ধাপের সাথে মিলিয়ে সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো একটি পরীক্ষা সব সত্য বলে না; কিন্তু একসাথে অনেক স্তর থাকলে মিথ্যা আড়াল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চতুর্থ স্তর : পর্যবেক্ষণমূলক ইন্টার্নশিপ
নিয়োগের আগে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময় একজন অভিজ্ঞ বিচারকের অধীনে কাজ করতে হবে। সেই সময়ে তার বিচারিক চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নথিভুক্ত করা হবে।

পঞ্চম স্তর : জনশুনানি
চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রার্থীর নাম ও যোগ্যতা সবার সামনে ঘোষণা করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো নাগরিক যুক্তিসঙ্গত আপত্তি জানাতে পারবেন, কমিশন সেগুলো বিবেচনায় নেবে।

ধাপ-৩ : নিয়োগ-পরবর্তী জবাবদিহির ব্যবস্থা

নিয়োগ হলে শেষ নয়, পরেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য দরকার-

১. বিচারিক কার্যক্ষমতার নিয়মিত মূল্যায়ন
প্রতি বছর একটি স্বাধীন প্যানেল বিচারকের রায়ের মান, গতি, ভাষার স্পষ্টতা এবং পক্ষপাতের ধরন পর্যালোচনা করবে।

২. জনঅভিযোগ গ্রহণের স্বাধীন প্রক্রিয়া
যেকোনো নাগরিক যাতে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন, তার জন্য একটি স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ সেল থাকবে, যা সরাসরি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করবে, সরকারের কাছে নয়।

৩. সম্পদের বার্ষিক ঘোষণা ও প্রকাশ
প্রতি বছর বিচারকদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ্যে আসবে, যাতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সহজে চোখে পড়ে।

ধাপ-৪ : অপসারণের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া
দুর্নীতিগ্রস্ত বা অযোগ্য বিচারককে সরানোর প্রক্রিয়া যদি জটিল বা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে জবাবদিহির পুরো কাঠামোটা অকেজো হয়ে পড়বে। তাই, অপসারণের সিদ্ধান্ত নেবে স্বাধীন বিচারিক তদন্ত ট্রাইব্যুনাল, সরকার নয়। এক্ষেত্রে তদন্ত প্রক্রিয়া হবে প্রকাশ্য ও নথিভুক্ত। অভিযুক্ত বিচারকের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ থাকবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।

ধাপ-৫ : সংস্কৃতি পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ
কাঠামো তৈরি করলেই হবে না, মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। এর জন্য, আইন শিক্ষার পাঠ্যক্রমে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের দর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। সৎ ও সাহসী বিচারকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দিতে হবে, যাতে এই পেশা সত্যিকার আদর্শবান মানুষদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিচারের ভাষা ও প্রক্রিয়া সহজ ও জনবোধ্য করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজের বিচার নিজে বুঝতে পারেন। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্কট কেবল আইনি নয়, এটি রাজনৈতিক, নৈতিক এবং সাংস্কৃতিক। আরো বিচারক নিয়োগ করে বা বিদেশী কোনো মডেল নকল করে এ সঙ্কট কাটবে না। এ জন্য প্রয়োজন তিনটি মৌলিক পরিবর্তন- ১. নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের প্রকৃত ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা। ২. নৈতিক চরিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নির্বাচন। ৩. বিচার বিভাগের নিজস্ব স্বচ্ছ জবাবদিহির কাঠামো প্রতিষ্ঠা।

সর্বোপরি, ব্যবস্থাটি এমনভাবে গড়তে হবে যাতে কোনো একজন মানুষের সততা বা সদিচ্ছার ওপর পুরো কাঠামো নির্ভরশীল না হয়।

লেখক : কানাডা প্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews