মহাকাশে দেখা যাওয়া একটি রহস্যময় অন্ধকার রেখার প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি কোনো শূন্য অঞ্চল নয়; বরং কেন্দ্রীয় তারাকে ঘিরে থাকা ঘন পদার্থের একটি পুরু চাকতির ছায়া। পৃথিবী থেকে চাকতিটিকে পাশের দিক থেকে দেখা যাওয়ায় এমন দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় তারাটি সরাসরি দেখা যায় না, কারণ সেটি সম্পূর্ণভাবে ওই ঘন চাকতির আড়ালে অবস্থান করছে। তবে তারার আলো পুরোপুরি আটকে থাকে না। চাকতির ওপর ও নিচের দিক দিয়ে আলো বেরিয়ে আশপাশের ধুলিকণাকে আলোকিত করে। এর ফলেই ছবিতে উজ্জ্বল অংশগুলো দেখা যায় এবং মাঝখানে একটি গাঢ় অন্ধকার রেখা তৈরি হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন, কেন তারাটিকে ঘিরে এত পুরু ও ধুলোময় পদার্থের স্তর তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো, কেন্দ্রীয় বস্তুটি আসলে একটি নয়, দুটি তারার সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।
যদি এই ধারণা সঠিক হয়, তাহলে অতীতে তারাগুলোর একটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরছিল। দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে তারাটি তার চারপাশে বিপুল পরিমাণ পদার্থ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বিষুবীয় অঞ্চলের (তারার মধ্যবর্তী বেল্টসদৃশ অংশ) দিক থেকে বেশি পদার্থ বেরিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পদার্থ তারাটিকে ঘিরে একটি ঘন ও পুরু চাকতির আকার ধারণ করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের গঠন ও আচরণ তারার বিবর্তন এবং মহাকাশে পদার্থের বিস্তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে অন্ধকার রেখার প্রকৃত উৎস এবং কেন্দ্রীয় বস্তুর সঠিক প্রকৃতি নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে