সানা, ২০ এপ্রিল – ইয়েমেনি রিয়ালের মান পতন ঠেকাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সফল হলেও দেশটিতে নতুন করে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে কারসাজি রোধে অবৈধ বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় স্থানীয় মুদ্রার মান বেড়েছে। কয়েক মাস আগে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মান ২ হাজার ৯০০ রিয়াল থাকলেও বর্তমানে তা ১ হাজার ৫০০ রিয়ালে নেমে এসেছে। তবে মুদ্রার মান বাড়লেও বাজারে স্থানীয় নোটের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এডেন, তাইজ ও মুকাল্লাসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, তাদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা থাকলেও ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো তা ভাঙাতে পারছে না। অনেক স্থানে দিনে মাত্র ৫০ সৌদি রিয়াল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি কালোবাজারি বাড়ছে। মুকাল্লার জনৈক ব্যবসায়ী জানান যে, তিনি সৌদি রিয়াল ভাঙাতে পুরো শহর ঘুরেও ব্যর্থ হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ছোট নোটের বান্ডিলে দেওয়া হচ্ছে যা বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগদ সংকটের প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা সেবায়ও। অনেক হাসপাতাল স্থানীয় রিয়াল ছাড়া অন্য কোনো মুদ্রায় পেমেন্ট নিতে রাজি হচ্ছে না। ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে আমদানিকারকরা কম দরে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারায় তারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের অর্থনীতিতে এই নতুন সংকট জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
এস এম/ ২০ এপ্রিল ২০২৬