পবিত্র রমজান মাস মুসলিমদের জন্য আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মসংযমের সময়। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, গ্যাস্ট্রিক বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, সেহরি ও ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন করলে এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব এবং রোজা রাখা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট, আঁশ (ফাইবার), স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত তরল থাকা জরুরি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইন অনুযায়ী, সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায়, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।
পানিশূন্যতা রোধে গুরুত্ব দিন হাইড্রেশনে
রমজানে সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮–১০ গ্লাস বা প্রায় ২–৩ লিটার পানি পান করা উচিত। তৃষ্ণা না লাগলেও নিয়মিত পানি পান করা ভালো।
চা, কফি বা কোলার মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি দ্রুত বের করে দেয়। পানির সঙ্গে লেবু, সামান্য চিনি ও লবণ মিশিয়ে ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, টমেটো বা কমলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।
সেহরিতে রাখুন পুষ্টিকর খাবার
সেহরি সারাদিনের শক্তির প্রধান উৎস। তাই ধীরে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া ভালো, যাতে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে।
সেহরিতে যে খাবারগুলো উপকারী:
উদাহরণ হিসেবে সেহরিতে ওটমিলের সঙ্গে দুধ ও ফল, অথবা সবজি দিয়ে ডালের স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইফতারে ধীরে ধীরে খাবার শুরু করুন
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে হঠাৎ বেশি খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাবার শুরু করা ভালো।
ইফতারের আদর্শ ধাপ হতে পারে:
খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাশিয়াম থাকে, যা দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেকড বা গ্রিলড খাবার যেমন সবজি ও ছোলার সঙ্গে বেকড চিকেন কিংবা ব্রাউন রাইসের সঙ্গে বেকড ফিশ স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি শরবত বা বেশি লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এসব খাবার হঠাৎ শক্তি বাড়ালেও পরে দুর্বলতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অতিরিক্ত কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ
রমজানে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা আরও কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা মেনে চললে পুরো রমজান মাসজুড়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব। সবাইকে পবিত্র ও সুস্থ রমজানের শুভেচ্ছা।