রুপালি পর্দায় হাজারো ভিলেনকে ধুলোবালি খাইয়ে দিলেও বাস্তব জীবনে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের সামনে এক ধরনের হীনম্মন্যতায় ভোগেন বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি নিজের রিয়্যালিটি শো ‘হুইল অব ফরচুন’-এর একটি পর্বে প্রতিযোগীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় নিজের এই গোপন অনুভূতির কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
অক্ষয় জানান, অনেকসময় অনেক বেশি ডিগ্রিধারী মানুষের সামনে দাঁড়ালে তিনি নিজেকে বেশ ‘ছোট’ অনুভব করেন।
অনুষ্ঠানটির একটি পর্বে সোনালী নামের এক উচ্চশিক্ষিত প্রতিযোগীর ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে অক্ষয় বলেন, আমার মতো যারা খুব বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ পায়নি, তারা আপনাদের মতো মানুষদের সামনে এলে মাঝে মাঝে খুব ছোট বোধ করে। আক্ষেপের সুরে এই অভিনেতা আরও যোগ করেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার মনে হয় যদি আরও একটু পড়াশোনা করতেন তবে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু এখন পড়তে চাইলেও আর হয়ে ওঠে না, কারণ বইয়ের পাতায় মন বসানো তার জন্য বেশ কঠিন কাজ। মজার ছলে তিনি জানান, যখনই তিনি কোনো বই পড়তে বসেন, কেন জানি না তার চোখ দিয়ে জল চলে আসে।
পড়াশোনার প্রতি নিজের অনীহার কথা জানালেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে অক্ষয় কুমারের বার্তাটি ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তার মতো কাউকে আদর্শ না মেনে বরং সোনালীর মতো উচ্চশিক্ষিত মানুষদের অনুসরণ করা উচিত। তিনি বলেন, আমি শুধু এটাই বলতে চাই যে পড়াশোনা করো, এটা অত্যন্ত জরুরি। আমাকে নয়, বরং শিক্ষিতদের অনুসরণ করো।
উল্লেখ্য, অক্ষয়ের স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না নিজে একজন প্রতিষ্ঠিত লেখিকা এবং ২০২৪ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডস্মিথস থেকে ফিকশন রাইটিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিজের ঘরেই এমন শিক্ষিত স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অক্ষয় স্বীকার করেছেন যে টুইঙ্কলের লেখা পাঁচটি বইয়ের একটিও তিনি আজ পর্যন্ত পড়ে শেষ করতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, অক্ষয় কুমারকে আগামীতে পরিচালক প্রিয়দর্শনের ‘ভূত বাংলা’ সিনেমায় দেখা যাবে। এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফিরেছে অক্ষয়-প্রিয়দর্শন জুটি। সিনেমাটিতে অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব এবং ওয়ামিকা গাব্বির মতো অভিনয়শিল্পীদের দেখা যাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল ছবিটি মুক্তি পাবে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি