প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বাংলাদেশের অন্য প্রধানমন্ত্রীর মতো নন, তা তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই একের পর এক চমকপ্রদ কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। যেমন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের বিশাল বহর ছাড়া সাধারণ মানুষের মতো যানজটে আটকে পড়ে চলাচল করা, পায়ে হেঁটে সচিবালয় থেকে পাশের ওসমানি মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে যাওয়া, নয়টার অফিসে নয়টায় হাজির হওয়া, ছুটির দিন শনিবার অফিস করা, হুট করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঢু মারা, সন্তানকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া বা বাদাম খেতে খেতে সাধারণ দর্শকের মতো ফুটবল খেলা উপভোগ করা, স্ত্রীর হাত ধরে চলা কিংবা নিজে ড্রাইভ করে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া, তরুণ ও প্রতিবন্ধীর উদ্ভাবিত যানে চড়ে তাদের উৎসাহিত করা, হঠাৎ কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া ইত্যাদি। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি ও প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি, তাঁর বিরুদ্ধবাদীরাও এসব কর্মকাণ্ডে অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মকাণ্ড অনেকের কাছে লোকদেখানো মনে হতে পারে। তবে যতই দিন যাচ্ছে, তাতে এটাও প্রতিভাত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণ লোকদেখানো নয়। এ আচরণ তার বৈশিষ্ট্যগত। তিনি প্রধানমন্ত্রী বটে, তবে প্রধানমন্ত্রীত্বের ক্ষমতা উপভোগ নয়, বরং জনগণের সেবক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। একজন দায়িত্বশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব পালন করার কথা, তা তিনি করছেন। অবশ্য তিনি নিজেকে বরাবরই একজন ‘রাজনৈতিক কর্মী’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। এটা যে শুধু বলার জন্য বলা, তা নয়। তিনি তাঁর প্রতিটি কর্ম দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীর বার্তা রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি দেশের সরকারপ্রধানের কথাবার্তা, চালচলন ও আচরণ সাধারণ মানুষের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তিনি কি করছেন, কি বলছেন, তা মনোযোগ দিয়ে ফলো করে। তাঁর সুকুমারবৃত্তি, তথা ভেতরের মহৎ গুণ, মানবিক অনুভূতি, শৈল্পিক মানসিকতা এবং সুন্দরকে উপলব্ধি করা মানুষের মনে দাগ কাটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এযাবৎকালের কর্মকাণ্ডে এসব গুণাবলী প্রকাশিত হয়েছে এবং তা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। পরিবারকে সময় দেয়া, স্ত্রীর হাত ধরে চলা আমাদের পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলেছেন, যারা কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে স্ত্রীকে যথাযথ সময় দেন না, কিংবা পরিবারের প্রতি উদাসীন, শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারকে সময় দিয়ে বাড়ির কর্তাদের চাপে ফেলে দিয়েছেন। স্ত্রীরা তাদের ব্যস্ত স্বামীদের বলতে শুরু করেছেন, প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারকে শত ব্যস্ততার মধ্যে সময় দিতে পারলে তুমি কেন পারছ না!


দুই.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীর মতো। তাঁর এই কর্মব্যস্ততা আমাদের প্রথাগত প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক কাজে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাই একটু রয়েসয়ে-ঢিমেতালে কাজ করি, এমন চিরায়ত আমলা অপসংস্কৃতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সকাল নয়টায় অফিস আসবেন, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অফিস করবেন, এটা ছিলÑঅনেকের কাছে অকল্পনীয়। আগে যেটা ছিল তা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতেন। দেখা যেত, পাঁচ বছর মেয়াদে বড়জোর দুই-তিনবার সচিবালয় পরিদর্শনে আসতেন। তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়ে ডে ওয়ান থেকে, এমনকি শনিবারও সচিবালয়ে অফিস করা শুরু করেছেন। সরকার প্রধান যখন, নয়টায় অফিস আসেন এবং ৫টার পরও কাজ করেন, তখন সচিব থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কি সেই আগের মতো নয়টার অফিসে দশটায় আসা, এসে কিছুক্ষণ খোশগল্প করা, তারপর ধীরলয়ে কাজ করা, কিংবা অফিস আওয়ারে না বলে বাইরে চলে যাওয়া, নির্ধারিত অফিস আওয়ার শেষ হওয়ার আগেই কি চলে যেতে পারেন? পারেন না। আবার প্রধানমন্ত্রী তাদের বাধ্যও করছেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে’, এই নীতি দিয়ে সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে তটস্থ করে রেখেছেন। কিছুদিন আগে সচিবালয়ের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, আগে যেখানে রাত ১২টার পর ঘুমাতে যেতাম, এখন আর সেই সুযোগ নেই। দশটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তে হয়। আগের নিয়মে চললে অফিসে যেতে দেরি হয়ে যায়, সকালে উঠেই হন্তদন্ত হয়ে অফিসে যেতে হয়। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস এখন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী ঠিক ৯টার সময়ই অফিসে এসে উপস্থিত হন। বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পিএইচডি করেছেন, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সমারিক কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, যার অধীনে পিএইচডি করছিলেন এবং বোর্ডে যারা ছিলেন, তাদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের সময়ই পাচ্ছিলেন না। প্রত্যেকেই দৌড়ের উপর আছেন। তারা এতটাই ব্যস্ত যে, দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রত্যেকেই বলেছেন, রোড সেফটি, যানজট নিরসনসহ সড়কের যাবতীয় সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এত কাজ দিয়েছেন যে, তা করতে গিয়ে কেবল দৌড়াতে হচ্ছে। রিলাক্স হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই দুটি উদাহরণ দেয়ার কারণ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করতে রাজী নন। প্রতিটি ঘন্টা তিনি কাজে লাগাতে চান। তিনি যেমন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনি যারা তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবেন, তাদেরও কর্মব্যস্ত রেখেছেন। সরকারের ভেতরের এই কর্মব্যস্ততা এবং কর্মচাঞ্চল্য, যা প্রধানমন্ত্রী তৈরি করেছেন, তা যখন পুরনো আমলাতান্ত্রিক শৈথিল্য কাটিয়ে পুরোপুরি সচল হবে, তখন তার ফলাফল দেশের মানুষ দেখতে পাবেন। শুধু প্রশাসনকে গতিশীল করাই নয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রীদেরও দৌড়ের উপর রেখেছেন। আমরা দেখেছি, দায়িত্ব পাওয়ার একমাসের মাথায় সংসদ অধিবেশন চলার মাঝে তিনি মন্ত্রীদের নিয়ে সংসদ ভবনে বৈঠক করেছিলেন। এক মাসে কোন মন্ত্রী কি কাজ করেছেন, তা জানতে চয়েছেন। অর্থাৎ তাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। মন্ত্রীরা তাদের কাজের ফিরিস্তি দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীও আর কি করতে হবে, এমন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (৯ এপ্রিল) তার দল বিএনপি ও তিনটি অঙ্গসংগঠনের (যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল) নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের সামনে ১০ জন মন্ত্রীকে হাজির করেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, এসব নেতাকর্মী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রেখেছেন। এখন বিএনপির ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদেরকে জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রীরা তা কতটা বাস্তবায়ন করেছে বা করা শুরু করেছে, সেই জবাব দেয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নেতাকর্মীদের সামনে জবাবদিহির ব্যবস্থা করেন। মন্ত্রীদের নিয়মিত নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে জবাবদিহির এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মিশন ও ভিশন নিয়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে যে, কোনো ছাড় দেবেন না, তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে।


তিন.
গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেখা যায়, দেশের অর্থনীতি বলতে কিছু নেই। দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও তার দেড় বছরের শাসনামলে সেই ঝুড়ির তলা লাগাতে পারেনি। উল্টো অর্থনীতির আরও অবনতি হয়েছে। এমন এক শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে বিজয়ী হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে দলটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের প্রধান অধিবেশনে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে কোনোরকম বাগাড়ম্বর না করে কিংবা তথাকথিত অর্থনেতিক উন্নয়নের বানোয়াট পরিসংখ্যান তুলে না ধরে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার লুটপাট ও অর্থপাচার করে দেশের উপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে গেছে। এই ঋণের বোঝা এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়েই তার সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসে ইরানযুদ্ধ। বিধ্বস্ত অর্থনীতি আরও চাপে পড়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। জনগণকে দেয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন শুরু করেন। শুরুতেই জনপ্রিয় ফ্যামিলি কার্ড (প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা) দেয়া শুরু করেন। টাঙ্গাইল ও ঢাকার ১৭ আসনের প্রায় ৩৮ হাজার পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়। এই কার্ড বিতরণ শুরু হয় প্রান্তি পর্যায়ের পরিবার থেকে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে এই কার্ড সারা বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারকে দেয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি প্রতিশ্রুত দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করা হয়। ইমাম, মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরুদের প্রতিমাসে পাঁচ থেকে তিন হাজার টাকার ভাতা প্রধান শুরু হয়। পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হয়। খালকাটা কর্মসূচি চালু হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের মাসিক ভাতা মানুষের কী উপকার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী ভূমিকা পালন করছে? এর জবাবে বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত হাজার হাজার পরিবার বেতনের মতো মাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছে। তাদের আয়ের সাথে এই বাড়তি অর্থ তাদের কষ্টের জীবনযাপন কিছুটা হলেও কমিয়েছে। এই অর্থ তারা সঞ্চয় ও কেনাকাটায় ব্যয় করছে। এতে অর্থপ্রবাহ কিছুটা হলেও বেড়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কৃষকরা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণমুক্ত হয়েছে। এতে যে ঋণের টাকা তাদের দিতে হতো, সে টাকা বেঁচে যাওয়ায় পরিবারে ব্যয় করতে পারছে। কৃষককার্ড দিয়ে কৃষকরা খরচের সাশ্রয় ও সুবিধা পাচ্ছে। এই বহুমুখী আর্থিক সহায়তার কারণে সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি রুগ্ন অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে, কিছুটা তাজা হয়েছে। অন্যদিকে, সামগ্রিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনায় ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করেছে। হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবনত অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকরেখা মাথা তুলতে শুরু করেছে। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত ইনকিলাবের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রফতানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪.৬-এ দাঁড়িয়েছে। গত মাসে (এপ্রিল) রফতানি আয় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বৃহ¯পতিবারের (৭ এপ্রিল) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিকে টেনে তুলে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তা ও পরিকল্পনা যে কাজ করছে, তা এসব তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতির এই উন্নতি যে, দ্রুতই গতি লাভ করবে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে এজন্য প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে গতিতে চলছেন, তার মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও একই গতিতে চলা।


চার.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাস না যেতেই যে বহুমাত্রিক ক্যারিশমা দেখিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের চিন্তা বা প্রত্যাশার মধ্যে ছিল না। ধরে নেয়া যায়, ভবিষ্যতেও তিনি এ ধরনের ক্যারিশমা দেখাবেন। তাঁর মধ্যে বাংলাদেশকে আধুনিক এবং উন্নত দেশে পরিণত করার চিন্তা এবং কর্মোদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বলেননি, আমরা সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া কিংবা ইউরোপের মতো কোনো দেশে পরিণত হয়েছি বা হচ্ছি। তিনি বলেছেন, অন্যদেশের উদাহরণ নয়, দেশকে উন্নত করে আমরা উদাহরণ হতে চাই। তার এই মনোভাবের পেছনেই বাংলাদেশের উন্নতি ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শক্তি লুকিয়ে আছে এবং বোঝা যাচ্ছে, তিনি সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন।
[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews