গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কী পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে ১২ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাফসান ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০২২ সালে। বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসানের মূল্যায়ন হচ্ছে, আগে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করত ছাত্রলীগ। হলে হলে গণরুম ছিল। গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হতো। এসব আর নেই। ক্যানটিনের খাবারের মানেরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
তবে রাফসানের দৃষ্টিতে, রেজিস্ট্রার ভবনে হয়রানি, শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের মতো বেশ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। আবাসনসংকটও পুরোপুরি কাটেনি। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের পর সহশিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বেড়েছে। আগে ক্যাম্পাসে যেভাবে কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক আয়োজন হতো, সেখানে এখন কিছুটা রূপান্তর ঘটেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ক্যাম্পাসে কাওয়ালি, সিরাত সন্ধ্যা ও পুঁথিপাঠের মতো আয়োজন বেড়েছে।
যে ১২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলছে প্রথম আলো, তাঁদের প্রায় সবাই বলেছেন, নবীন শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে মেধাতালিকা ও স্থায়ী ঠিকানা বিবেচনায় হল প্রশাসন এখন আসন বণ্টন করছে। বিভিন্ন হলের পাঠকক্ষের পরিবেশও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। ভবনটিও ছিল স্যাঁতসেঁতে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি মেরামত করে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম আনা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের উন্নয়নে কাজ চলমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল আছে ১৮টি। ছাত্রদের জন্য ১৩টি আর ছাত্রীদের জন্য ৫টি। এর বাইরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি হল আছে। এ ছাড়া হোস্টেল আছে ৫টি। এসব হোস্টেল কোনো না কোনো হলের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিভিন্ন হলে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা আছে। তবে হলে থাকেন প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ১৮। আর শিক্ষক আছেন ১ হাজার ৯৯২ জন।