হাম। যে রোগটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেই রোগই এখন শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একের পর এক ছোট ছোট মুখ, যাদের অনেকেই এখনো ঠিকমতো ‘মা’ ডাকতে শেখেনি, পৃথিবীর রং ভালো করে দেখতেও পারেনি—তাদের জীবন থেমে যাচ্ছে জ্বর, কাশি, লালচে দাগ আর শ্বাসকষ্টের মধ্যে।
মৃত্যুর সংখ্যা এখন শুধু একটি সংখ্যা নয়। ১০০, ২০০, ৩০০—এভাবে গুনতে গুনতে ৪৯৯। একসময় সেটি ৫০০-তে পৌঁছাবে। আর তখন হয়তো কোথাও কোনো হাসপাতালের বিছানায়, কিংবা কোনো গ্রামের মাটির ঘরে, কোনো মা বা বাবা তাঁদের শিশুর কপালে হাত রেখে কাঁপা গলায় বলবেন, ‘আর একটু চোখ খোলো বাবা।’
কিন্তু শিশুটি আর চোখ খুলবে না।
ভাবলে শিউরে উঠতে হয়—এই শিশুগুলোর অপরাধ কী ছিল?
তারা তো রাজনীতি বোঝেনি। টিকাদান কর্মসূচির ফাইল কোথায় আটকে আছে, তা জানত না। এ নিয়ে দেনদরবারে কী সমস্যা হয়েছিল, তা তাদের জানাও নেই। তারা শুধু জন্মেছিল এই পৃথিবীতে একটু বড় হবে বলে। স্কুলে যাবে, নতুন জামা পরবে, বৃষ্টিতে ভিজবে, বাবা অথবা মার আঙুল ধরে হাঁটবে—এই ছিল তাদের স্বপ্ন। অথচ তাদের ভাগ্যে জুটল হাসপাতালের অক্সিজেন মাস্ক আর সাদা কাপড়ে মোড়ানো নিথর শরীর।