দেশের মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, সেখানে প্রায় ১০০ বছর বয়সেও জীবনের সাথে লড়াই করে বেঁচে আছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের সোনাভানু। তবে দীর্ঘ জীবনের এই পথচলা সুখের নয়; অনাদর, অবহেলা আর দারিদ্র্যই যেন তার নিত্যসঙ্গী।

শতবর্ষী বৃদ্ধা সোনাভানু উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কেল্লা গ্রামের মরহুম কাজেম ফকিরের স্ত্রী।

জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে সোনাভানুর জন্ম তারিখ লেখা আছে ১৯২৭ সালের ১০ আগস্ট। সে হিসাবে তার বর্তমান বয়স প্রায় ৯৯ বছর। তবে তার প্রকৃত বয়স কমপক্ষে ১২০ বছর হবে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে মারা গেছেন, অন্য মেয়ে কোথায় আছেন জানা নেই কারো। কখনো মাকে দেখতেও আসেন না। তাছাড়া বৃদ্ধ ছেলেও হতদরিদ্র, তিনিও মাকে দেখেন না।

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন বিধবা সোনাভানু। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় সহায়-সম্বলহীন এই বৃদ্ধার আশ্রয় মিলেছে ভাতিজা আব্দুর রহমানের বাড়ির উঠোনের এক কোণে নির্মিত একটি ছোট্ট ঘরে। তার অসহায়ত্ব দেখে সাত-আট বছর আগে গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। তবে সে ঘরটিও এখন জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় অন্যের বাড়িতে গিয়ে খাবার চেয়ে খেতেন সোনাভানু। কিন্তু বার্ধক্যের ভারে এখন আর দূরে যেতে পারেন না। প্রতিবেশীরাই মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। কখনো নিজেই কারো বাড়িতে গিয়ে আহার করেন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারেন না।

প্রতিবেশী ইসরাফিল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখে আসছি। তার বয়সী আর কেউ আমাদের এলাকায় বেঁচে নেই। তার নাতি-নাতনিরাও মারা গেছেন। আমরাই যতটুকু পারি তার দেখাশোনা করি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে বেঁচে আছেন, তবে তারাও বৃদ্ধ। কিন্তু উত্তরসূরীদের কেউ তার খোঁজখবর নেন না।

চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ নিয়ে সোনাভানু বলেন, আমার অনেক বয়স হয়েছে। আমাকে দেখার মতো কেউ নেই। এক ছেলে আছে, সেও খোঁজ নেয় না। বয়স্ক ভাতার যে সামান্য টাকা পাই, তা দিয়ে ওষুধ কিনি। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে অনাহারে থাকতে হয়। এ সময় তিনি খাওয়া-পড়াসহ চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তার হাত বাড়াতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews