আমরা এখনো মনে করি এবং বিশ্বাস করি যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সব কর্ম ও অপকর্মের চিহ্ন মুছে যায়, সবাই সবকিছু ভুলে যায়। চিঠি, খাতা, বই মলিন হলে বিক্রি হয়ে যায় এবং মণ্ডে রূপান্তরিত হয়ে আবার নতুন কাগজ তৈরি হয়; ক্যাসেট প্লেয়ারে রেকর্ড করা থাকলে তা ধ্বংস হয়ে যায়, আমাদের অপরাধ যারা দেখেছে, সেই সাক্ষীদের মৃত্যু হয় এবং পরিশেষে সব তথ্যই হারিয়ে যায়। ইতিহাসের অনেক গোপন ও প্রকাশ্য ঘটনা এভাবেই হারিয়ে গেছে; আমরা জানতেও পারিনি।
আমাদের বর্তমান পৃথিবীতে আসলে কি কিছু হারিয়ে যায়? আমাদের সেই আগের পৃথিবী আর এই ডিজিটাল পৃথিবী কি এক? আমরা এখন যে পৃথিবীতে বাস করি, সেখানে কোনো তথ্যই হারায় না; তথ্য আসলে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করে। আমাদের ভালো কাজ বা মন্দ কাজ—সবই নথিভুক্ত হয়ে থাকছে।
জেফরি এপস্টিন ফাইল-সম্পর্কিত খবরগুলো পড়তে পড়তে আমার এ কথাগুলোই মনে হয়েছে। এপস্টিনের নথিপত্রের আলোচনায় আমরা যা পড়েছি, তা হচ্ছে গোপন অপরাধ, ক্ষমতাবানদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তাদের গোপন জীবনের অন্ধকার দিক। এ নিয়ে খবরাখবর হয়তো আমরা আর দেখব না, কিন্তু এই এপিসোডকে শুধু কিছু ক্ষমতাবানের কেলেঙ্কারির গল্প হিসেবে দেখলে আমরা এই পর্বের মূল শিক্ষাটা বুঝতে পারব না। এপস্টিন ফাইল-সম্পর্কিত এই নথিগুলো আমাদের শেখাচ্ছে যে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধ লুকিয়ে রাখা এবং পার পেয়ে যাওয়া এই এআইয়ের যুগে আমাদের মনে রাখার প্রকৃতি কীভাবে বদলে দিয়েছে।