হলিউড তারকা শ্যারন স্টোন সম্প্রতি নিজের জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ করেছেন। স্তনে টিউমার ধরা পড়ার পর চিকিৎসকেরা যখন তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন, তখন তার সাবেক স্বামী ফিল ব্রনস্টিন পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। ‘দ্য পারসন হু বিলিভড ইন মি’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যারন স্টোন জানান, সেই ঘটনাই তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

অনেকগুলো টিউমার ধরা পড়ে

৬৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, একসময় তাঁর স্তনে একাধিক টিউমার ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি টিউমারের আকার ছিল তাঁর পুরো বাঁ স্তনের চেয়েও বড়। শ্যারনের ভাষায়, ‘আমার চিকিৎসক বাড়িতে এসে বলেছিলেন, “আমরা মনে করি আপনার দুই স্তনই অপসারণ করা উচিত। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সাধারণত এমন অবস্থায় আমরা ধরে নিই ক্যানসারের আশঙ্কা খুব বেশি।”’তখনো তাঁর ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েনি। কিন্তু ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না অভিনেত্রী।

স্টোন বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, “আমার তো ক্যানসার হয়নি।” তখন চিকিৎসক বললেন, “সেটা আপনি ঠিক করতে পারবেন না।” আমি উত্তর দিয়েছিলাম, “না। সিদ্ধান্ত আমি-ই নেব। আর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মাস্টেকটমি (একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য স্তনের সম্পূর্ণ টিস্যু বা এর একটি অংশ অপসারণ করা হয়) করার, কারণ আমি এ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”

শ্যারনের দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা শোনার পর তাঁর স্বামী ফিল ব্রনস্টিনের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমার স্বামী বলেছিলেন, এটা একেবারেই হাস্যকর। তারপর উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।’

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন এবং ফিলকে বলেছিলেন, আরও অনেক নারী হয়তো বেঁচে যেতেন, যদি তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে একই রকম দৃঢ় অবস্থান নিতেন। কিন্তু সেই ঘটনার পর শ্যারনের মনে হয়েছিল, তাঁর স্বামী মনে করছেন তিনি অযথা বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং সবকিছু নিজেই ঠিক করতে চাইছেন।

‘সেদিনই আমাদের বিয়ের সমাপ্তি ঘটে’

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শ্যারন বলেন, ‘সেদিনই আমাদের বিয়ের সমাপ্তি ঘটে। ঠিক ওই ঘরেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি আমার সঙ্গে আর থাকতে চাননি। সম্পর্ক তখনই শেষ হয়ে যায়।’ ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেছিলেন শ্যারন স্টোন ও ফিল ব্রনস্টিন। প্রায় ছয় বছর সংসার করার পর ২০০৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। অভিনেত্রীর মতে, স্বাস্থ্য–সংকটের সেই সময় ও স্বামীর প্রতিক্রিয়াই তাঁদের সম্পর্কের গভীর সমস্যাগুলোকে স্পষ্ট করে দিয়েছিল।

নিজের শরীরের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছেন

সাক্ষাৎকারে শ্যারন জোর দিয়ে বলেন, নিজের শরীর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁরই ছিল। তিনি মনে করেন, জীবনের এমন কঠিন মুহূর্তে একজন নারীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমর্থন ও সহমর্মিতা। কিন্তু তিনি সেটি পাননি।

ব্যক্তিজীবন নিয়ে এখনো নীরব

বর্তমানে তিনি কোনো সম্পর্কে আছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি শ্যারন। তবে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নিজের মতামত দিতে তিনি বরাবরই সরব। সম্প্রতি ধনী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিনেত্রী সোফিয়া ভারগারার মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
কাজের খবরে কিছুদিন আগে শ্যারন স্টোন অভিযোগ করেছিলেন, ‘অ্যানাদার সিম্পল ফেভার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করা হলেও পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লিখেছিলেন, ‘আমাকে একটি চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল, তারপর কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হলো। সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা!’ সবশেষে তাঁকে দেখা গেছে ‘নোবডি ২’ অ্যাকশন চলচ্চিত্রে। তবে সাম্প্রতিক এই ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তিই এখন হলিউডে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফক্স নিউজ অবলম্বনে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews