পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-গফরগাঁও-ময়মনসিংহ রেলপথে ঈদে ঘরমুখী সাধারণ ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা চরম আকার ধারণ করেছে। আসন সংকট, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং রেল প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে এই রুটের আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোর ঈদযাত্রা এখন সাধারণ মানুষের জন্য আনন্দের বদলে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের বিভিন্ন ট্রেনে সরেজমিনে যাত্রীদের সাথে কথা বলে এমন অবর্ণনীয় চিত্র ও ক্ষোভের কথা জানা গেছে।
ঢাকা থেকে গফরগাঁওগামী ট্রেনযাত্রী মাহমুদুল হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, অনেক কষ্ট করে অনলাইনে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ও আসন পেয়েছিলাম। কিন্তু কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনের ভেতর ও দরজায় এত অতিরিক্ত মানুষের ভিড় যে, সিট পর্যন্ত পৌঁছানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে। দরজায় দাঁড়ানো যাত্রীরা কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে টিকিট কেটেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে সড়কপথে গফরগাঁওয়ে ফিরছেন।
এদিকে গফরগাঁও থেকে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন উত্তরবঙ্গ ও নেত্রকোনার গন্তব্যে চলাচলকারী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মেইল ট্রেন—বলাকা এক্সপ্রেস, জামালপুর কমিউটার ও মহুয়া এক্সপ্রেসের গফরগাঁও স্টেশনের জন্য নিয়মিত বরাদ্দকৃত আসনগুলো ঈদের আগে ও পরের কয়েক দিনের জন্য রহস্যজনকভাবে বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। রেলের এই হঠকারী ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় নিয়মিত যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন আকাশচুম্বী। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ও ট্রেনের হাতল ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের মতো একটি মহিমান্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার পরিবর্তে আসন বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গণবিরোধী, অযৌক্তিক এবং যাত্রীদের প্রতি চরম অবিচার। তারা অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে ঈদের আগে ও পরে বিশেষ ট্রেন চালু এবং যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতার অভাব এবং কালোবাজারি ও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির কারণেই প্রতিবছর এই রুটে সাধারণ মানুষকে জীবন বাজি রেখে ঈদযাত্রা করতে হয়। রেল বিভাগ দ্রুত স্পেশাল বগি যুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আগামী কয়েক দিনে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।