তাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কীভাবে কাটবে, তা নয়; বরং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে। এর উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন এমন এক কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি, যা সাময়িক উত্তেজনার ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে; দুই দেশের বাস্তব পার্থক্যকে বিবেচনায় রাখবে, কিন্তু তাকে সম্পর্কের সীমা হিসেবে মেনে নেবে না এবং মতপার্থক্য ও সহযোগিতা—উভয়কেই বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের আলোকে পরিচালনা করবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্ব কোনো সাময়িক রাজনৈতিক ঘটনার ওপর নির্ভর করে না। এর ভিত্তি রয়েছে দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থের মতো দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায়। চার হাজার কিলোমিটারের বেশি স্থলসীমান্ত, ৫৪টি অভিন্ন নদী এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা
দুই দেশের মধ্যে এমন এক পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি করেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা দিয়ে উপেক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক তাই কোনো একটি বিষয়কে ঘিরে আবর্তিত সম্পর্ক নয়; এটি পানি, বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো পরস্পরসংযুক্ত স্বার্থের সম্পর্ক।