বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বড় সম্ভাবনা দেখছেন ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ফুটবলার অ্যাশলেই প্লামট্রি। শুধু ফুটবল নয়, নারী ক্রীড়াবিদদের ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সউদী নারী প্রিমিয়ার লিগের এই তারকা ডিফেন্ডার। গতকাল সকালে ঢাকায় পৌঁছে মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে যান প্লামট্রি। সেখানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের একটি বিশেষ জার্সি উপহার দেওয়া হয়। জার্সি পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্লামট্রি বলেন, এটি পরে মাঠে নামতে পারলে তিনি আরও খুশি হতেন।
বাফুফে ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গেও কথা বলেন প্লামট্রি। তাদের মধ্যে ছিলেন আফিদা খন্দকার, মারিয়া মান্ডা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও মনিকা চাকমা। নারী ফুটবলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের বেড়ে ওঠা, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার আগ্রহের কথাও জানান তিনি। প্লামট্রির কাছে বাংলাদেশ সফরের গুরুত্ব কেবল ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষায়,‘পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই আমাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।’ খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম বলেও মনে করেন তিনি। নিজের নাইজেরিয়ান ও ব্রিটিশ পরিচয়ের কথা তুলে ধরে প্লামট্রি বলেন,‘ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার প্রতি আমার গভীর আগ্রহ রয়েছে।’ নারী ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে খেলাধুলার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে নাইজেরিয়ার লাগোসে ২৫০ মেয়েকে নিয়ে ক্যাম্প আয়োজন করেছিলেন প্লামট্রি। সেখানে মাঠের বাইরের কথোপকথন থেকেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ভবিষ্যতে ইউরোপের পেশাদার ফুটবলে যেতে পারবেন কি না- এমন প্রশ্নে বাস্তবতার কথাই বলেছেন প্লামট্রি। তার মতে, এজন্য সময়ের পাশাপাশি প্রয়োজন বড় ধরনের বিনিয়োগ, উন্নত অবকাঠামো এবং মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন।
সউদী আরব নারী ফুটবলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও সেখানে অনেক নারী সংগঠিতভাবে ফুটবল খেলার সুযোগ পেতেন না। কিন্তু বিনিয়োগ ও বিদেশি খেলোয়াড় আনার মাধ্যমে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশেও নারী ফুটবলে সঠিক বিনিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাফল্য আসতে পারে।’
প্লামট্রির বিশ্বাস, বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সম্ভাবনার কোনো সীমা নির্ধারণ করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত সুযোগ, বিনিয়োগ ও সমর্থন পেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা আরও শক্তভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।