বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত হুইলচেয়ার জাতীয় ক্রিকেট দল গঠনের লক্ষ্যে হুইলচেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যমুনা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ৯ উইকেটে সুরমাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তিন উইকেট হাডরিয়ে ৮৭ রান করে সুরমা দল। জবাবে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৮৯ রান করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় যমুনা।
প্লেয়ার অফ দ্য ফাইনাল রায়হান হোসেন রাজা, ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট ও সেরা বোলার রাজু মিয়া এবং সেরা ব্যাটার জুলহাস। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিসিবির পরিচালক ও সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ড. ওয়াহেদুজ্জামান তমাল, সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান। বিসিবি-ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড উইংয়ের সদস্য সচিব ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার মো. সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য ও ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল, নির্বাহী সদস্য মো. মনিরুজ্জামান, মো. হেদায়েতুল আজিজ ও মো. নাঈম হাওলাদার।
উল্লেখ্য, গত ২-৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড উইংয়ের উদ্যোগে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত হয় দুই দিনব্যাপী বিসিবি হুইলচেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা মোট ৪টি দলে সকল ধরণের হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী, পোলিও, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, অ্যাম্পুটি ও অন্যান্য কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি, হুইলচেয়ার চালানো ও হুইলচেয়ার ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী/পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়গণ অংশগ্রহণ করেন। বিসিবি কর্তৃক নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়।
২ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে ৬ টি ম্যাচ সহ ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শীর্ষ দুই দল যমুনা ও সুরমা দল ফাইনালে অংশগ্রহণ করে। যমুনা দল সুরমা দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। সুরমা দল রানারআপ হয়।
টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিসিবির অভিজ্ঞ আম্পায়ার, স্কোরার, কোচ, ক্লাসিফায়ার, বিসিবি-ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড উইং এর নির্বাহী সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য কর্মকর্তা, সেচ্ছাসেবক ও হুইলচেয়ার এসিস্ট্যান্টসহ নানা স্তরের পেশাজীবিগণ সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।