বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম কী বলে, তা দেখা দরকার। ইউরোপের ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’-এর অধীন ভেনিস কমিশন ২০০০ সালে একটি গাইডলাইন দেয় (গাইডলাইনস অন প্রোহিবিশন অ্যান্ড ডিসলিউশন অব পলিটিক্যাল পার্টিজ অ্যান্ড অ্যানালগাস মেজারস)। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে সহজে নিষিদ্ধ করা যাবে না; এটি করা যাবে শুধু খুবই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যেমন দলটি সহিংসতা সমর্থন করে বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভাঙতে সহিংস পথ নেয়। শুধু রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেই দল নিষিদ্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ দৃষ্টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে কেউ অপরাধ করলে ব্যক্তিগতভাবে তার বিচার হওয়া উচিত, পুরো দলকে দায়ী করা নয়।
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, দল নিষিদ্ধ হবে একেবারে শেষ উপায়—‘আটমোস্ট রেস্ট্রেইন্ট’ বা সর্বোচ্চ সংযম মেনে। নইলে এটি ‘কালেকটিভ পানিশমেন্ট’ বা সমষ্টিগত শাস্তি হয়ে যেতে পারে, যা রাজনীতিকে একপেশে ও প্রতিশোধমূলক করে তোলে। তাই ভেনিস কমিশন এবং অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ বলেছে, এ ক্ষেত্রে ‘প্রপোরশনালিটি’ (মাত্রার ভারসাম্য রাখা), ‘নেসেসিটি’ (অপরিহার্যতা) ও ‘জুডিশিয়াল স্ক্রুটিনি’ (বিচারিক যাচাই-বাছাই) মানা জরুরি।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ দেখলে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায়। সব দেশে দল নিষিদ্ধ করলে একই ফল হয় না, কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই এতে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি ব্রিফিং (ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ব্রিফিং অন পলিটিক্যাল পার্টি ব্যানস’, আগস্ট ২০২৫) দেখায়, সেখানে দল নিষিদ্ধকে গণতন্ত্র বাঁচানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়; সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেওয়ার উপায় হিসেবে নয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশভিত্তিকভাবে দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।