বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের পক্ষ থেকে স্কুলে বাগান করে দেওয়া হবে—এই খবরে শিক্ষার্থীরা বেশ খুশি হয়েছিল। বাগানের জন্য গাছ, বেড়া, বাঁশ স্কুল মাঠে নিয়ে আসা মাত্রই হাজির হয় একদল শিক্ষার্থী।
কার আগে কে কোনটি নিয়ে যাবে এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছিল। সবার চোখে-মুখে আনন্দ খেলা করছিল। বেশ উচ্ছ্বসিত সবাই। ‘আমাদের স্কুলে বাগান হবে।
গাছে ফুটবে ফুল। ধরবে নানা ফল। বাড়বে স্কুলের সৌন্দর্য’—এভাবেই মুখস্থ পড়ার মতো আবেগ নিয়ে বলল তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরাও একই সুরে বলতে লাগল স্কুলের বাগান নিয়ে নানা স্বপ্নের কথা।
এমন একটি বাগান যেন ছিল তাদের স্বপ্নে, নিত্যকল্পনায়। সবুজ পৃথিবী গড়তে এবং শিশুদের স্বপ্ন বুননে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলে বাগান করে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছে শুদ্ধতায় ২৫ বছর পেরোনো বসুন্ধরা টিস্যু।
গত ১৬ জুন মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা টিস্যুর সহায়তায় একটি বাগান করে দেওয়া হয়েছে।
দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা রকম গাছে সমৃদ্ধ বাগানটি করে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। ‘সবুজে সুন্দর আগামী’—এই স্লোগানে সারা দেশেই চলছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের বাগানে বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, পাতাবাহার, লেবুসহ নানা রকম গাছ লাগানো হয়েছে। বাগানের চারপাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উপহার হিসেবে বসুন্ধরা টিস্যুর বক্স দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দেবশ্রী পাল দীপা বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমার বাড়ির পাশের একটি স্কুলে বাগান করে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এটি দেখে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একটি বাগান করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। আজ আমার স্কুলে বাগান হচ্ছে, খুব ভালো লাগছে। বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃক্ষপ্রেমী ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ খান, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জলিল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. আব্দুল হাকিম, বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা মো. সুমন মিয়া, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি জুটন বনিক, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব হুমায়ুন রহমান নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার শাহীন, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, মুক্ত খবরের আখাউড়া প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান ও যায়যায়দিনের বিজয়নগর প্রতিনিধি আশীষ সাহা। এ ছাড়া ধাতুরপহেলা গ্রামের বিশিষ্টজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. ইকবাল আহমেদ খান বলেন, ‘বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীকে সবুজ করার কোনো বিকল্প নেই। এটি বসুন্ধরা শুভসংঘের সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ।’ দেলোয়ার হোসেন জলিল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ মানেই ব্যতিক্রম কিছু। বাগান করার কার্যক্রমটি আমার কাছে দারুণ আইডিয়া মনে হয়েছে।’ আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। ঠিক এই মুহূর্তে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’ হুমায়ুন রহমান নয়ন বলেন, ‘পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। বসুুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।’
বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন