২০২১ সালের বহুল আলোচিত সেই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। সম্প্রতি র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের একটি অনলাইন টকশোতে দেওয়া বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নিজের সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে এ দাবি করেন তিনি। পরীমণি জানান, তৎকালীন র্যাবের প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল।পরীমণির ভাষ্য,র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামকে ধন্যবাদ। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র্যাবের প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।
তিনি বলেন , গ্রেফতারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।
অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, এতগুলো দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই। এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দেবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?
পরীর ভাষ্য, আমি কখনও চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।
নায়িকা আরও লিখেছেন, আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতামূলক। কঠিন সময়ে যাঁরা বিনা প্রশ্নে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সেই পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরীমণি।
সবশেষে তিনি লিখেছেন, আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতোই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনও চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনও বৃথা যায় না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।