২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল ২১ মে। ইন্টার কাশিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের শিরোপা জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। গোল করেছেন স্ট্রাইকার ইউসুফ এজেজ্জারি আর দর্শকপ্রিয় ফিলিস্তিনি মিডফিল্ডার মোহাম্মদ রশিদ।
ইস্ট বেঙ্গলের এই জয়ের স্বাদটা আরও বেড়ে গেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে পয়েন্ট তালিকায় পেছনে ফেলে শিরোপা জেতায়। মোহনবাগান সেদিন স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল এবং শিরোপার আশায় উদযাপনও শুরু করেছিল। কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে হাতের কাছ থেকে ট্রফি সরে যায় তাদের।
আইএসএলের শেষ দিনে চারটি দলের শিরোপা জেতার সুযোগ ছিল। রাতের শুরুতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল ইস্টবেঙ্গল। পরের তিনটি স্থানে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান, মুম্বাই সিটি ও পাঞ্জাব এফসি। এমনকি জামশেদপুর এফসিরও গাণিতিকভাবে সামান্য সুযোগ ছিল।
কিন্তু রাতের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ইস্টবেঙ্গলের জন্য। মাত্র নয় মিনিটের মধ্যে আলফ্রেড প্লানাসের অসাধারণ ভলিতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। মুহূর্তের জন্য যেন থমকে গেল পুরো পশ্চিমবঙ্গ। ২০১২, ২০১৪, ২০১৮-এর সব হারের স্মৃতি ফিরে আসতে লাগল।
তবে এবার আর সেসবের পুনরাবৃত্তি নয়, সত্যিই ফুটবল হাসল ইস্টবেঙ্গলের দিকে চেয়ে। ৪৯ মিনিটে এজেজ্জারির গোলে সমতা ফেরে। কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মাত্র নয় হাজার দর্শক থাকলেও মাঠ ফেটে পড়ল উল্লাসে। ওদিকে ৬২ মিনিটে ক্লারেন্স ফার্নান্দেজ স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির হয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে গোল করেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামে নেমে আসে নীরবতা।
৭২ মিনিটে মোহাম্মদ রশিদ ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে হাত শিরোপা ছুঁতে পারেনি, সেই হাত এবার ট্রফির কাছে পৌঁছে গেল।
শেষ বাঁশি বাজতেই কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন ভাসে পরমানন্দে। মাঠ ঢেকে যায় লাল আর হলুদে। মিগেল দামাসেনো, রশিদ, সাউল ক্রেসপো আর বিপিন সিংকে কাঁধে তুলে নেন সমর্থকরা।
বিশৃঙ্খলা, স্পনসর সংকট, লিগের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যে মৌসুম কেটেছে, সেই মৌসুমের শেষটা হলো সেরাভাবে। ২২ বছরের অপেক্ষার পর ইস্টবেঙ্গল পেল তাদের প্রাপ্য গৌরব।