পবিত্র রমজান মাস ও সম্ভাব্য শবে কদরের আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে র্যাব-১১-এর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিনের লালসার শিকার হওয়া এক নিরপরাধ দম্পতির লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক কাহিনী। এক সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন ও শবে কদরের দিনে রোজা ভাঙিয়ে ধর্ষণের সেই ঘটনা নতুন করে নেটিজেনদের ক্ষোভ ও ঘৃণার সঞ্চার করছে।
ঘটনাটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় র্যাব-১১-এর একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি খবর পেয়ে সটকে পড়তে সক্ষম হলেও, তাকে না পেয়ে আলেপ উদ্দিন চরম প্রতিহিংসার আশ্রয় নেন। তিনি ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও শ্যালককে তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান এবং র্যাব-১১-এর হেফাজতে টানা তিন দিন আটকে রাখেন।
আটকে থাকা স্ত্রীকে উদ্ধার করতে নিরুপায় হয়ে স্বামী নিজেই আলেপ উদ্দিনের কাছে ধরা দেন। কথা ছিল, স্বামীকে পাওয়ার পর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় বীভৎসতায়। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন আলেপ উদ্দিন। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও থেমে থাকেনি এই লালসা।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো—পবিত্র শবে কদরের সময় যখন ধর্মপ্রাণ মানুষ ইবাদতে মশগুল, তখন ওই নারীকে জোরপূর্বক রোজা ভাঙিয়ে ধর্ষণ করেন আলেপ উদ্দিন। এই পৈশাচিক ঘটনার কথা পরবর্তী সময়ে জানাজানি হলে তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
স্বামী বিষয়টি জানতে পেরে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিলে আলেপ উদ্দিন উদ্ধতভাবে পাল্টা মেসেজ দিয়ে জানান: "কোনো লাভ হবে না, বন্দী নারী ও বন্দীদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করা র্যাবে অলিখিতভাবে স্বীকৃত।"
এই বিভীষিকা সইতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই নারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি বেঁচে থাকলেও ছিলেন একটি 'জীবন্মৃত লাশ'। চরম ট্রমার কারণে মাঝেমধ্যেই চিৎকার করে উঠতেন তিনি। অবশেষে ২০১৯ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এই চরম অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আজকের ২৭শে রমজান ও সম্ভাব্য শবে কদরের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পরিবারটির জন্য দোয়ার পাশাপাশি আলেপ উদ্দিন ও তার সহযোগীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকে বলছেন, যে ব্যবস্থা বা সংবিধান এমন কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেয়, তার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মাজলুমের চোখের পানি কখনো বৃথা যায় না। এই পবিত্র রাতে আমরা সেই মা-বোনের বিচার চাই যার সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাপটে।"